তিনি পৃথিবী ছেড়েছেন ১৪ বছর হলো। তারপরও কর্মগুণে বারবারই ফিরে আসেন গ্রামীণ সড়কের ‘রূপকার’ কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। স্বপ্নের মেট্রোরেল উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই আবারো পর্দার অন্তরাল থেকে দেখা দিলেন এই গুণী প্রকৌশলী।
কেননা তাঁর হাতেই তৈরি হয় ঢাকার জন্য প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশসহ কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি)। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের (ডিটিসিবি) অধীন তৈরি এসটিপি’র নির্বাহী পরিচালক ছিলেন তিনি। পরিকল্পনায় ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদি এ পরিকল্পনায় ঢাকায় তিনটি মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশ করেছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা।
সময়ের অন্তরালে থাকলেও দেশের অন্যতম
দৈনিক বণিক বার্তা’র কাছে সেই কথাটাই প্রকাশ করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এমএম সালেহউদ্দিন। তিনি ছিলেন সেই সময়ে এসটিপি’র অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক। তার ভাষায়, ‘এসটিপিতে ঢাকার জন্য ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি ও বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি অন্তর্ভুক্ত করতে যে কয়েকজন মানুষ জোরালো ভূমিকা রাখেন তার মধ্যে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক স্যার অন্যতম। তিনি ঢাকার জন্য এমন গণপরিবহন ব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেটা একসঙ্গে বিপুল মানুষকে সেবা দিতে পারবে।’
‘কামরুল ইসলাম স্যার খুবই মেধাবী একজন মানুষ ছিলেন। তার কোনো তুলনা হয় না। ডিটিসিবিতে যতদিন কাজ করেছেন, সবসময় তাকে দেখেছি কর্মতৎপর। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার জীবন আরো দীর্ঘ হলে গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি নগর অবকাঠামোর উন্নয়নেও বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতেন’—যোগ করেন ড. সালেহউদ্দিন।