মিনিমাম ও কর্পোরেট ট্যাক্স-এ ছাড় চায় এমটব
বাজেট প্রস্তাবনা সময় এলেই গত কয়েক বছর ধরে একই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সভায় ধর্না দিচ্ছে মোবাইল অপারেটদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। গত অর্থবছরের প্রস্তাবনার মতো করকাঠামো সংস্কারের ফলে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে তা কতটা প্রভাব ফেলবে তার শতকরা হারও উপস্থপন করা হয়েছে এবারো। তবে এতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দ্বৈত ট্যাক্সেশন এভয়ডেন্স এগ্রিমেন্ট কার্যকরের দাবি।
১৬ দফা প্রস্তবানায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে অলাভজনক অপারেটরের উপর ন্যূনতম ২% টার্নওভার ট্যাক্স প্রত্যাহার বা যুক্তিসঙ্গত করার দাবিকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বরাবরের মতো উচ্চ কর্পোরেট করের হারকে যৌক্তিক এবং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়টি।
বুধবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় যুক্তিসহ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এমটব মহাসচিব এস এম ফরহাদ।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাকবাজেট আলোচনায় এমটব ছাড়াও বৃটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি), বিড়ি শিল্প মালিক সমিতি এবং বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া এনবিআরের পক্ষে সদস্য মো. মাসুদ সাদিক (কাস্টমস নীতি), জাকিয়া সুলতানা (ভ্যাট নীতি) এবং সামসুদ্দিন আহমেদ (আয়কর নীতি) উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে এমটব মহাসচিব বলেন, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট কর হার ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতালিকাভূক্ত কোম্পানির কর হার ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন।
এমটবের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দ্বৈত ট্যাক্সেশন এভয়ডেন্স এগ্রিমেন্ট (DTAA) র্কাযকর করা এবং ধারা ৫৬ এর অধীনে অনাবাসীদের যুক্তিসঙ্গত করা । বাংলাদেশ এবং অন্যান্য ৩৩টি দেশের মধ্যে ডাবল ট্যাক্সেশন এভয়ডেন্স এগ্রিমেন্ট (ডিটিএএ) রয়েছে, তবুও বাংলাদেশের সকল অনাবাসী সেবা প্রদানকারী যাদের স্থায়ী অফিস নেই তাদের এনবিআর থেকে নন-ডিডাকশন সার্টিফিকেট নিতে হয়। উপরন্তু, ধারা ৫৬ এর অধীনে কিছু পরিষেবার জন্য বর্তমান করের হার ৩০% পর্যন্ত, যা খুব বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন করের হার বাস্তবসম্মতভাবে কমানোর দাবির পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ২০০ টাকা কর বিলুপ্তি, মোবাইল ডেটা পরিষেবায় সম্পূরক কর কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আদর্শ কর হার হিসেবে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন এমটব মহাসচিব।
ফোর জির ক্ষেত্রেও ভ্যাট প্রত্যাহারের সুযোগ চেয়ে ফরহাদ বলেন, গত বছরের ২৭ জানুয়ারি এক বিশেষ আদেশ অনুযায়ী বিটিআরসিতে টু জি ও থ্রি জির রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ফোরজির ক্ষেত্রেও এই সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি রাখেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “বিগত বছরগুলোতে মোবাইল খাতের রাজস্ব দেশের জিডিপির ১ শতাংশের বেশি ছিল এবং এই খাতটির কর ও ফি প্রদানের পরিমাণ ছিল মোট সরকারি কর রাজস্বের সাড়ে ৪ শতাংশের মতো। অর্থাৎ অর্থনীতিতে মোবাইল খাত সংশ্লিষ্ট করের অবদান এর আকারের ৪ গুণেরও বেশি। অপরদিকে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান জিডিপিতে আনুমানিক ৭ শতাংশ। মোবাইল কাভারেজের বিস্তৃতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখনো মোবাইল নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারেনি। তাই ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তির অন্যতম শর্ত হচ্ছে মোবাইল খাতে কর কাঠামোর সংস্কার। করের মাত্রা কমিয়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে সহজেই ত্বরান্বিত করতে পারে সরকার। প্রস্তাবিত বিষয়গুলির উপরে নজর দেওয়া হলে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন এবং টেলিকম খাতে করের হার বাস্তবসম্মতভাবে কমানো হলে বিনিয়োগকারীরা আরও বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে।”