মাইক্রোসফটকে টপকে শীর্ষে এনভিডিয়া

১৯ জুন, ২০২৪ ১৬:২৯  

অ্যাপল-মাইক্রোসফটকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) তাদের শেয়ারের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি হয়ে ওঠে সংস্থাটি। এদিন এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৫ দশমিক ৫৮ ডলারে উঠে যায়; বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি ডলার। এর চেয়ে বেশি বাজার মূলধন কোনো কোম্পানির নেই। কয়েক দিন আগে অ্যাপলকে হটিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক বাজার মূলধনসম্পন্ন কোম্পানির তকমা পায় এনভিডিয়া; কয়েক দিনের মধ্যেই তারা শীর্ষ কোম্পানি হয়ে উঠল।

এই বছর সামগ্রিকভাবে এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য বেড়েছে ১৭০ শতাংশের বেশি, যেখানে চিপ প্রসেসর বাজারের ৮০ শতাংশ দখলে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও শীর্ষে অবস্থান করছে চিপ জায়ান্ট কোম্পানিটি।

বর্তমানে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ৩ লাখ ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে থাকা দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফটের বর্তমান বাজারমূল্য ৩ লাখ ৩২ হাজার কোটি ডলার এবং অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩ লাখ ২৯ হাজার কোটি ডলার।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি’র খবরে প্রকাশ, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’র ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপকে ‘প্রযুক্তি খাতের নতুন সোনা বা তেল’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষকরা। এ ধরনের চিপের চাহিদা বাড়ার কারণেই এনভিডিয়ার শেয়ারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এই খাতে আরও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন এনভিডিয়ার টেলিযোগাযোগ ব্যবসা উন্নয়নের গ্লোবাল হেড ক্রিস পেনরোজ। কোপেনহেগেনে একটি অনষ্ঠানে বক্তৃতাকালে সম্প্রতি তিনি বলেছেন, জেনারেটিভ এআই যাত্রা বিশ্বজুড়ে ব্যবসা এবং টেলিযোগাযোগকে সত্যিই বদলে দিচ্ছে। আমরা এর প্রারম্ভিক পর্যায়ে রয়েছি।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্যে এমন নাটকীয় উত্থানে কেবল মঙ্গলবারই তাদের বাজারমূল্যে যোগ হয়েছে দশ হাজার কোটি ডলারের বেশি।

কোম্পানির শেয়ারমূল্যে সাম্প্রতিক উত্থানের জন্য শেয়ারবাজারে বিভাজনের ঘটনাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘ই তোরো’র বিশ্লেষক স্যাম নর্থ।

“কোনো শেয়ার বিভাজন প্রতিটি একক শেয়ারের দাম কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে ব্যক্তিপর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সেগুলো কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়,” ব্যাখ্যা করেন তিনি।

“এনভিডিয়া যেহেতু ১০:১ অনুপাতে তাদের শেয়ার বিভাজন করেছে, তাই এতে সত্যিকারের বিজয়ী হয়েছেন খুচরা বিনিয়োগকারীরা।”