ভারতে আগুনে পুড়ছে ই-স্কুটারের স্বপ্ন!
ভারতে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে বিদ্যুচ্চালিত স্কুটারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ফলে ওলা ই-স্কুটার, পিওর ইভি কিংবা এস১ প্রো কেনার আগে দোটানায় পড়ছেন দেশটির ক্রেতারা। এতে শঙ্কায় ফেলছে বাড়ন্ত এই নতুন শিল্পটি। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে শত শত কোটি ডলারের প্রণোদনার প্রস্তাব দেয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশাজাগানিয়া নতুন এই খাত।
২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে বছরে ১০ লাখ ই-বাইক বিক্রি হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সে লক্ষ্যেই জুড়ে দিয়েছে একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
বিবিসির খবরে প্রকাশ, আগুন লাগার ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে ‘ওলা ইলেকট্রিকে’র তৈরি স্কুটারে। ওলা ই-স্কুটারের আগুনে পুড়ে ছাই হওয়ার ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে শনিবার। ভারত সরকার এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে।
ওলার ঘটনার পরপরই তদন্তের পর উৎপাদনকারীর বিরুদ্ধে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা ভারতীয় সংসদে বলেছে মোদী প্রশাসন।
ওলার অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয় ‘এস১ প্রো’ স্কুটার থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার পরপরই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে পুনে শহরের এক ব্যস্ত রাস্তায়।
এছাড়াও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘পিওর ইভি’র একটি স্কুটারেও আগুন লেগেছে এবং ‘ওকিনাওয়া অটোটেক প্রাইভেট’-এর একটি জ্বলন্ত বাইকে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়চি নিয়ে ওকিনাওয়া অটোটেক জানিয়েছে, ই-বাইকটি পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এতে এক ব্যক্তি ও তার কন্যা মারা যান।
এসব ঘটনার পর অনেক ক্রেতাই নিজেদের স্কুটার কেনার পরিকল্পনা বদলানোর কথা জানিয়েছেন রয়টার্সকে।
অনেকেই এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে নিজেদের শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। বৈদ্যুতিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনই সঠিক সময় কি না, সেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন তারা।
যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে দুই চাকা বিশিষ্ট স্কুটার এবং মটরবাইক বিক্রির ৮০ শতাংশই বিদ্যুচ্চালিত যানে আনতে চায় মোদী সরকার। বর্তমানে এই হার দুই শতাংশ।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের বৈদ্যুতিক যান বিষয়ক ‘থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক’ সংস্থা, ‘নীতি আয়োগ’-এর পরিচালক রণধীর সিংহ বলেছেন, “এটি একটি উদিয়মান খাত এবং নেতিবাচক কোনো কিছু এতে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবেই। তবে এ পরিস্থিতি মোকাবেলার ধরন ঠিক করে দেবে ভোক্তার বিশ্বাস এবং আস্থা বজায় থাকে কি না।”