ব্লাস্ট প্রতিরোধক বাউ ধান-৩ উদ্ভাবন
ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক দল বিজ্ঞানী। নতুন জাতের ধানিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বাউ ধান-৩’। এই ধান বোরো ও আমন মৌসুমে আগাম জাত হিসেবে রোপণ করা যাবে। প্রচলিত ব্রি-২৮ এর চেয়েও হেক্টরপ্রতি এক টন বেশি উৎপাদন হবে।
বাকৃবি’র উপাচার্য কৃষি অনুষদের কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. লুৎফুল হাসানের নেতৃত্বে তরুণ বিজ্ঞানীদের একটি দল দীর্ঘ গবেষণায় এ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এ জাতের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন যা ব্রি ধান-২৮ এর সমসাময়িক। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন ২৫ গ্রাম। রান্না করা ভাত ঝরঝরে এবং খেতে সুস্বাদু। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এবং ক্ষরা না হলে বাউ ধান-৩ প্রতি হেক্টরে ৭ থেকে ৮ টন পর্যন্ত ফলন দেয়।
সূত্রমতে, ২০১৫ সালে ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) থেকে আনা হয় ধানের কৌলিক সারি। বাকৃবি’র উপাচার্য ওই ধানের কৌলিক সারি নিয়ে ব্লাস্ট প্রতিরোধ নতুন ধান উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন বাকৃবি’র সাবেক খামার তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান খান, কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল হক, একই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. আরিফ হাসান খান রবিনসহ একদল তরুণ বিজ্ঞানী।
প্রাথমিক পর্যায়ে বাকৃবির অভ্যন্তরীন গবেষণাগারে কাজ শুরু হলেও পরে ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লট আকারে পরীক্ষামূলকভাবে মাঠ পর্যায়ে চাষ করা হয়। নতুন জাতের এ ধান ব্লাস্ট প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ও অধিক উৎপাদনশীল। গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বিবেচনায় রেখে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় বীজ বোর্ডের শততম সভায় নতুন উদ্ভাবিত বাউ ধান-৩ অনুমোদন লাভ করে।