বৈশ্বিক বাজারে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে নীতিগত সুবিধায় সোচ্চার ই-ক্যাব

৩১ মে, ২০২০ ০০:৩৬  
ক্রস বর্ডার ই-কমার্স সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্য নীতিতে রপ্তানি ক্ষেত্রে বি টু বি অ্যাপ্রোচ থেকে বি টু সি অ্যাপ্রোচে সুযোগ চেয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভোক্তার কাছে সরাসরি পণ্য পৌঁছাতে নীতিগত সুবিধায় সোচ্চার ই-ক্যাব সদস্যরা। অবশ্য ইতোমধ্যেই বিষয়টি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি ছাড়াই রপ্তানি সুবিধা যুক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অধীন ডব্লিউটিও সেল মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান। তবে এ জন্য সিসিআইএন্ডডি এর অনুমতির প্রয়োজন হয় বলে জানান তিনি। শনিবার (৩০ মে) রাতে করোনা পরবর্তী অ্যামাজনে ক্রস বর্ডার বিজনেস অপরচুনিটি নিয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর ক্রসবর্ডার ট্রেড স্ট্যান্ডিং কমিটির অনলাইন বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, অ্যামাজন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার পিংকি ভট্টাচার্য, অ্যামাজন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডেভেলপমেন্ট এর সিনিয়র ম্যানেজার সুমিত, পেওনার এর সাউথ এশিয়ার টিম লিডার অমিত আরোরা, বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) সমন্বয়ক শফিক জামান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডব্লিউটিও সেল মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ই-ক্যাব ক্রসবর্ডার ট্রেড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। অনুষ্ঠানে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল জানান, ক্রস বর্ডার ই- কমার্সে আমাদের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। অর্ডার পাবার পরে কাস্টমসের কাছে প্রক্রিয়াকরণের জন্যে পাঠালে তারা দ্রুত পণ্যটিকে খালাস করে দেয়ার মতো উদ্যোগ নিলেই এই বাজারে আমরা সহজে প্রবেশ করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, এই করোনাকালেও আমরা পণ্য পৌঁছে দিচ্ছি গ্রাহকের হতে। সরকার আমাদের এই সহযোগিতা করেছে। হাফিজুর রহমান বলেন, ই-কমার্স ব্যবসায় আমরা এখনো নতুন, তবে আমাদের তরুণ প্রজম্ম এই ক্ষেত্রে ভালো করছে। অ্যামাজনের রিটার্ন পলিসিসহ অন্যান্য পলিসি আরো সহজ করলে ব্যবসা করতে সহজ হত। আলোচনায় অংশ নিয়ে অ্যামজানে পণ্য বিক্রি করা খুবই সহজ, তেমন ডকুমেন্ট লাগে না। ইন্ডিয়াতে মাত্র দুইটি কাগজ লাগে এক্সপার্ট- ইম্পোর্ট এর লাইসেন্স এবং পেওনারের ব্যাংক ডকুমেন্ট এমনটাই জানান অ্যামাজন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার পিংকি ভট্টাচার্য। এসময় আগ্রহী ব্যবসায়ীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহসাই বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের পর্যায়ে নেই অ্যামাজন। তবে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে অনলাইন লিংকে ক্ষুদ্র, মাঝারি ব্যবসায়ী ছাড়াও উৎপাদকেরাও বৈশ্বিক পণ্য বিপননে অ্যামাজনের সার্বিক সহায়াতা পাবেন। এছাড়াও পেওনার এর সাউথ এশিয়ার টিম লিডার অমিত আরোরা বলেন, বাংলাদেশ থেকে দিন দিন বেড়েই চলছে পেওনার ব্যবহারকারী। ব্যবহারকারীরা কিভাবে সহজে লেদদেন করতে পারে সেটা নিয়েই কাজ করছি। বর্তমান সময়ে কি ধরনের পণ্য অলনাইনে বিক্রি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হোম ক্যাটাগরি, লেদার, সু, ইত্যাদি অনলাইনে কেনার প্রবণতা বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়াতে বিক্রি বেড়েছে অ্যামজনের। এখন লকডাউনের সময়ে যেহেতু হোক ওয়ার্ক, চেয়ারের বিক্রি বেড়েছে। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রস বর্ডার বিজনেস এর জন্য সরকারের পলিসি পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে এই ওয়েবিনারে। ভোক্তার কাছে সরাসরি পণ্য পৌঁছতে ভারত ও অন্যান্য দেশের মতো ডিজিটাল ব্যবসায় বিদ্যমান বাধা অপসারণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।