পোশাক শিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃত্রিম তন্তু তৈরিতে প্রণোদনা দাবি
কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান মেইড ফাইবার দখল করছে বিশ্ববাজার। এক্ষেত্রে আগামীর বিশ্বে টিকে থাকলে হলে প্রকৌশলীদের আরো সুকৌশলী হতে হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য সরকারের নীতি-সুবিধাসহ এসব রপ্তানী পণ্যের প্রণোদনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)'র বস্ত্র কৌশল বিভাগের উদ্যোগে "বাংলাদেশে ম্যান মেইড ফাইবার (এমএমএফ) উৎপাদনের সুযোগ - প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জ এবং লিঙ্কিং অ্যাকাডেমিয়া" শীর্ষক সেমিনারে এই দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জি. মো. আবদুস সবুর বলেছেন, বস্ত্রশিল্প নিয়ে সরকার অনেক সচেতন। এই শিল্পকে বিকশিত করতে আরও গবেষণা করতে প্রকৌশলীরা এগিয়ে আসবেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্জিত হয় তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিযোগিতার বাজারে ঠিকে থাকতে হলে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে হয়।

স্বাগত বক্তব্যে আইইবি সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এস. এম. মঞ্জুরুল হক মঞ্জু বলেন, বস্ত্র খাতের নতুন এ বাজার ধরতে এখনই কটনের পাশাপাশি নন-কটনের তৈরি পণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। এজন্য সরকারের নীতি-সুবিধাসহ এসব রপ্তানী পণ্যের প্রণোদনার প্রয়োজন। তাহলে খুব সহজেই এ বাজারে প্রবেশ করা যাবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিনিয়োগও বাড়বে।
আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলামের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন বুটেক্সের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন। উপস্থাপনায় তিনি জানান,
আমাদের দেশের সিংহভাগ রপ্তানি হয় ন্যাচারাল ফাইবার তথা কটন ফাইবার দিয়ে তৈরীকৃত পোশাক থেকে। বর্তমানে সময়ে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক তুলার তৈরি পোশাকের চেয়ে এখন নন-কটন বেইজড অর্থাৎ কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান মেইড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পোশাকের বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি ম্যান মেইড ফাইবারের। অথচ বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত পোশাকের মধ্যে এর হার ৩০%। তাছাড়া ম্যান মেইড ফাইবারে পানি ও কেমিক্যাল কম ব্যবহার করতে হয়। যার ফলে উৎপাদন খরচ এবং পরিবেশ দূষণ কমে আসে। কিন্তু এই ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে বেশি শুল্ক থাকায় স্থানীয় টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী কম হন। অবশ্য কটন ফাইবার দেশে আমদানিতে কোনো প্রকার শুল্ক দিতে হয় না। অথচ
বাজারে তৈরি পোশাকের এক-চতুর্থাংশ নন-কটনের দখলে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানি কারক দেশ হয়েও পিছিয়ে রয়েছে।
বস্ত্র খাতের নতুন এ বাজার ধরতে এখনই কটনের পাশাপাশি নন-কটনের তৈরি পণ্য রপ্তানিতে জোর দিতে হবে। এজন্য সরকারের নীতি-সুবিধাসহ এসব রপ্তানী পণ্যের প্রণোদনার প্রয়োজন। তাহলে খুব সহজেই এ বাজারে প্রবেশ করা যাবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বিনিয়োগও বাড়বে। একইসাথে কটনের তুলনায় ম্যান মেইড ফাইবার ভালো দামে রপ্তানি করা যাবে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান (সিআইপি), বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়(বুটেক্স)'র উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ শাহ আলীমুজ্জামান বেলাল, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী মোঃ শাহাদাত হোসেন (শিবলু), আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবুল কালাম হাজারী, প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্তী, ইঞ্জি. মো. রনক আহসান, ঢাকা সেন্টারের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শেখ মাসুম কামাল, আইইবির কৃষি কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মেছবাহুজামান চন্দনসহ আইইবির নেতৃবৃন্দ।







