ধরা খেলেন ‘ফেসবুক মাস্টার’

২৭ জানুয়ারি, ২০২৪ ২০:০৩  

গাইবান্ধা জেলার সদর থানার স্টেশন রোড এলাকার ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। পেশায় প্রিন্টিং প্রেসের কর্মী হলেও স্থানীয়দের কাছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্ন আইডির সমস্যা সামাধান করে ‘মাস্টার’ উপাধি পেয়েছেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিনব প্রতারণায় নেমেছেন এই যুবক। কখনও পুলিশ কর্মকর্তা, কখনও রাজনৈতিক নেতা, কখনওবা মন্ত্রী, নানা জনপ্রিয় ও আলোচিত ব্যক্তিদের নামে ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ আকাউন্ট খুলে  ৭৭১ নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের নামে ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ খুলে আলোচনায় এসে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে। ওসি মহসীন নিজে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে শুক্রবার গাইবান্ধার স্টেশন রোডের দাশ বেকারি মোড়ের ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করা হয় আনোয়ারকে।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আনোয়ার মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও ইন্টারনেট থেকে ফেসবুকসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে শিখে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। স্থানীয় অনেকের ফেসবুক আইডির সমস্যা সমাধান করে দেওয়ায় তাকে মাস্টার নামেও ডাকা হতো। আর এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে হুবহু নামে ফেসবুক আইডিও খুলতেন। এ্ররপর বিভিন্ন নারীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে আপত্তিকর ছবিসহ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেন।’

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, আনোয়ারকে গ্রেফতারের পর তার কম্পিউটার ও মোবাইলে রাষ্ট্রপতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তেজগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চিত্রনায়ক শান্ত খান, অভিনেতা ও মডেল আব্দুন নুর সজল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ফেসবুক আইডি পাওয়া যায়। এরমধ্যে কয়েকটি আইডি ডিজেবল পেলেও বাকিগুলো সচল অবস্থায় ছিল।


তিনি বলেন, আনোয়ার কখনো ওসি, কখনো নায়ক, কখনো জনপ্রতিনিধি সেজে প্রতারণা করতেন। ভুয়া আইডি খুলে এ পর্যন্ত তিনি ৭০০ এর বেশি নারীর সঙ্গে কথা বলতেন। শিক্ষার্থী, গৃহিণী, প্রবাসী, মডেল সবাই আছেন এ তালিকায়। ম্যাসেঞ্জারে কথা বলার পর হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। কথা বললেও কারো সঙ্গে ভিডিও কলে আসতেন না তিনি।


আবার কেউ তাকে দেখতে চাইলে কিংবা সন্দেহ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লক দেন আনোয়ার। তিনি মূলত মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন। তাদের মধ্যে কারো কারো সঙ্গে ছবিও আদান-প্রদান করেন। আবার কারও কারও কাছে টাকাও দাবি করেন।