জুলাই নাগাদ দেশেই করোনা টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা!

১৫ মে, ২০২১ ১৩:২২  
করোনা করাল গ্রাস থেকে দেশের মানুষকে সুরক্ষায় ‘গণ টিকা দান’ কর্মসূচিকেই কার্যকর উপায় হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থবিদরা। যক্ষ্মা ও অন্যান্য টিকা কর্মসূচির মতোই এই কার্যক্রম চালাতে সে পথেই হাঁটছে সরকার। সেই লক্ষ্যে আমদানি নয়, দেশেই করোনা টিকা উৎপাদনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। ঔষধ উৎপাদনকারী দেশী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসকে সক্ষমতা সনদ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে রাশিয়া টিকা উৎপাদনের প্রযুক্তি হাতে পেলেই এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই দেশেই ‘স্পুতনিক-ভি’ টিকা উৎপাদন শুরু হওয়ার আভাস দিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে দেশে টিকাটি উৎপাদনে সক্ষমতায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও ‘স্পুতনিক-ভি’শুধু চীনের সিনোফার্মের কোভিড-১৯ টিকা ‘বায়ো’ এর মাস্টার সিড থেকে টিকা উৎপাদন করতে পারবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত কোর কমিটিকে জানিয়েছেন ইনসেপ্টা ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির। অবশ্য বিষয়টি লিখিত ভাবে জানাতে ইনসেপ্টাকে পরামর্শ দিয়েছে কোর কমিটি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী জুলাই থেকে দেশে রাশিয়ার ‘স্পুতনিক-ভি’টিকা উৎপাদনে যাওয়ার অবস্থায় রয়েছে সক্ষমতায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পপুলার। প্রসঙ্গত, মোট পাঁচটি ক্ষেত্র বিবেচনায় নিয়ে উল্লিখিত দুই কোম্পানিকে সক্ষম বলে নম্বর দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সক্ষমতা মূল্যায়ণের কোর কমিটি। এই নম্বর পত্রটি ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠিয়েও দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাল্ক থেকে ফিল ফিনিশ করে টিকা তৈরির সক্ষমতা ও মাস্টার সিড থেকে টিকা তৈরির সক্ষমতায় ৫ নম্বরের মধ্যে ইনসেপ্টা পেয়েছে ৪, পপুলার ৩, হেলথ কেয়ার ২। মাসে কী পরিমাণ টিকা উৎপাদনে সক্ষম—এ ক্ষেত্রে ৫ নম্বরের মধ্যে ইনসেপ্টা ৫–এ ৫ পেয়েছে, পপুলার ৩ ও হেলথ কেয়ার পেয়েছে ১ নম্বর। কোর কমিটির কার্যপত্রে মূল্যায়ণের মোট ২৫ নম্বরের মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ২৫ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ২১ এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পেয়েছে ১২। আর হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ৫ নম্বর পাওয়ায় তাদের প্রথম ধাপে উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কেননা টিকা তৈরির অভিজ্ঞতা এবং রেজিস্টার্ড টিকার সংখ্যা মূল্যায়নে ৫ নম্বরের মধ্য ইনসেপ্টা ৪ ও পপুলার ২ নম্বর পেলেও হেলথ কেয়ার পেয়েছে শূন্য নম্বর। এদিকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবন করা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেতে পারেনি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) ইথিক্যাল কমিটির ছাড়পত্র না পাওয়ায় ট্রায়াল শুরু করা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।