চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার প্রত্যয় জানালেন সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী
প্রথম বিএফডিএ সম্মাননায় যুক্ত হয়েছে দেশীয় ওটিটিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েবফিল্ম
দেশেই বিদেশ থেকে নেয়া আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা চালু এবং প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করতে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেছেন, দেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার সব ধরণের পদক্ষেপ নেবে।
আজ শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিএফডিএ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে সমাজে অনেক পরিবর্তন হয়েছে যে পরিবর্তনগুলো ইতিবাচক। এ পরিবর্তনগুলো আমাদের সামনে অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো আপাত দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জকে কীভাবে সুযোগ হিসেবে আমরা পরিবর্তন করতে পারি, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।
‘দেশে নির্মিত ভালোমানের চলচ্চিত্র দেশের হলগুলোতে হলিউড বা অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্রকে প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলছে। সে যোগ্যতা এদেশের চলচ্চিত্রের রয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক সময় প্রযোজকরা দেশের বাইরে গিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা নিচ্ছে। কারণ দেশে এ সুবিধাগুলো নেই। আমরা যদি দেশে এই সুবিধাগুলো প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারি, এফডিসি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণ করতে পারি তাহলে এফডিসি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। এজন্য এফডিসি বা এ ধরণের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করার বিষয় নিয়ে সরকার কাজ করছে’- যোগ করেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি (বিএফডিএ) ২০২২-২০২৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র এবং দেশীয় ওটিটি মাধ্যমে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন শাখায় অবদান ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ ও অভিনেতা এম এ আলমগীর এবং ২০২২ সালের জন্য পরিচালক এ জে মিন্টু ও অভিনেতা সোহেল রানা। এছাড়াও রেডরাম ছবির জন্য প্রথমবারের মতো দেয়া শ্রেষ্ঠ ওয়েব ফিল্ম পুরস্কার জিতেছেন রেদওয়ান রনি। একই চলচ্চিত্রের জন্য সম্মাননা জিতেছেন ভিকি জাহিদ। কান চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালক হয়েছেন রায়হান রাফি। এদের সবার পক্ষ থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেন রেদওয়ান রনি। রনির রেডরাম ছবিতে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন মেহজাবিন চৌধুরী। আর টান চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনোত হয়েছেন সিয়াম আহমেদ।
২০২২ সালের ছবি দেশান্তর এর জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনীকারের সম্মাননা জিতেছেন কবি নির্মলেন্দু গুন। এ বছরে শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হয়েছেন নূরুল আলম আতিক, আশুতোষ সুজন ও ডালিম কুমার।
আরো সম্মাননা পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে প্রয়াত ফারুক হোসেন, হৃদি হক, সুমন সরকার, তৌহিদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী আারাফাত বলেন, দেশের সিনেমা হলগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভবান না হলে চলচ্চিত্র সমস্যার সম্মুখীন হবে। সিনেমা হল যদি সচল থাকে এবং মানুষকে যদি হলে আনা যায় তাহলে চলচ্চিত্রের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় সিনেপ্লেক্স এবং মাল্টিপারপাস সিনেমা হল তৈরি এবং সেগুলো কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করা যায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বপ্নধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উর রশিদ এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ-এর চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন।







