আইসিটি-টেলিকম খাতে চীনের কাছে আরও ৬ নতুন প্রস্তাব

২৪ জানুয়ারি, ২০২৪ ১২:১৯  

ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ছয়টি প্রকল্পে চীনের কাছে নতুন করে আরও এক বিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিটের জন্য ৬টি প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ের বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমেদ পলক। বৈঠক শেষের প্রেস ব্রিফিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পলক ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে শুরুতেই রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন সব সময় বাংলাদেশের বিষয়ে ইতিবাচক হিসেবেই পাশে থাকবে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। একইসঙ্গে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার। একারণেই আমরা নতুন সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে পথে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে নিতে চাই। সেজন্য আইসিটির অবকাঠামোর উন্নয়নে চলমান প্রকল্প, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব কর্মসূচি ও অর্থায়নে সামনের দিনেও বাংলাদেশের পাশে থাকবো। এক্ষেত্রে আমার পূর্ণ বিশ্বাস, প্রতিমন্ত্রী পলকের সঙ্গে সহযোগিতার ধারা আরো ভালো ও উন্নত পরিস্থিতি তৈরিতে সক্ষম হবো।

বৈঠকে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে কোনো বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবনা পেয়েছি, সেগুলো এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখনি এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারছি না। আমরা সবসময় প্রতিশ্রুতি পূরণে বিশ্বাসী। দেখি কীভাবে সামনে এগুনো যায়।

এরপর আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গত ১০ বছরে চীনের সরকার ও প্রাইভেট কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে আমাদের সহযোগিতা করেছে। চীনের ঋণ সহায়তায় ডক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইনফো সরকার ২ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করেছি। নফো সরকার ৩ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করেছি। আমরা এখন ইডিসি প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৯ হাজার প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভূমি অফিস এবং কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক ফাইবার অপটিকের অধীনে সংযুক্ত করছি। ৫৫৫টি স্মার্ট ইমপ্লয়মেন্ট সেন্টার করছি। এছাড়াও পূর্বাচলে ৪১ তলা একটা স্মার্ট টাওয়ার করছি। বিটিসিএল এর পিএসটিএন, টেলিটক এর ৪জি এবং ডেটা স্টোর স্থাপনসহ ৬টি প্রকল্পে গত ১০ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা আমরা ব্যবহার করেছি। সেখান থেকে আয় করে এখন আমরা ঋণটা ফেরতও দিচ্ছি।

একইভাবে সরকারের ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে চীনা সরকার ও দেশটির এক্সিম ব্যাংক ও টেক কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণে ইআরডি’র মাধ্যমে ৬টি প্রকল্প প্রস্তাবনা করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই প্রস্তাবনার মধ্যে ৫০০ মিলিয় ডলারে মর্ডানাইজেশন অব আরবান অ্যান্ড রুরাল লাইফ, টেলিটকের ৪জি নেটওয়ার্ক বিস্তৃতির ও বিটিসিএল ও টেশিস এর উন্নয়ন এবং বিসিসি’র অধীনে কিছু প্রকল্পে সব মিলিয়ে আরো ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক থেকে অর্থনৈতিক কুটনীতির ওপর গুরুত্বারোপের প্রসঙ্গ টেনে পলক আরো বলেন, আমরা চাইছি এখন চীন ও সে দেশের কোম্পানিগুলো যেনো বাংলাদেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতকে তাদের সর্বোত্তম বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে নির্বাচন করে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ-চায়না ইনভেস্টমেন্ট সামিট করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও রফতানি আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত অংশীদাত্বের একটি সমঝোতা চুক্তি করবো।

তবে বৈঠকে হুয়াওয়ে’র ৫জি প্রকল্প বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, টেলিকম ও আইসিটি’র ৬টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব আমরা ইআরডি’র মাধ্যমে পাঠিয়েছি। যেগুলো বাস্তবায়নাধীন আছে সেগুলো চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো কি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।