‘আলো জ্বেলে নিভে যাওয়া’ শালবাহান তেলকূপে ফের অনুসন্ধান দাবি
পঞ্চগড়: শালবাহান যুগিগছ। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার একটি গ্রাম। ৩৭ বছর আগে যেই গ্রামটিতে তেলের খনি আবিষ্কারের খবরে সরগরম ছিল পুরো দেশ। বিদেশি কোম্পানি, হেলিকপ্টারে বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত, কোটি টাকার প্রকল্প, সবকিছুতেই ছিল স্বপ্নের হাতছানি। জমি অধিগ্রহণ, বসতি সরিয়ে কাঁটা তারেরর বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ, মহাসমারহে খনন উপকরণ নিয়ে কাজ শুরুর সেই দৃশ্যপট অবহেলিত এই […] The post ‘আলো জ্বেলে নিভে যাওয়া’ শালবাহান তেলকূপে ফের অনুসন্ধান দাবি first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব
পঞ্চগড়: শালবাহান যুগিগছ। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার একটি গ্রাম। ৩৭ বছর আগে যেই গ্রামটিতে তেলের খনি আবিষ্কারের খবরে সরগরম ছিল পুরো দেশ। বিদেশি কোম্পানি, হেলিকপ্টারে বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত, কোটি টাকার প্রকল্প, সবকিছুতেই ছিল স্বপ্নের হাতছানি। জমি অধিগ্রহণ, বসতি সরিয়ে কাঁটা তারেরর বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ, মহাসমারহে খনন উপকরণ নিয়ে কাজ শুরুর সেই দৃশ্যপট অবহেলিত এই জনপদের মানুষের মধ্যে প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশার স্বপ্নকে বর্ণিল করে তোলে। বদলে যায় সীমান্ত জনপদের অবয়ব। শুরু হয় খনন কাজ।
খনির সম্ভাব্যতায় এক পর্যায়ে সফলতার হাতছানি দেখা যায়। খনিকেন্দ্রিক আবহ সীমান্তের এই জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকায় সম্ভবনার অন্যরকম এক আমেজ তৈরি করে। তৎকালীন সরকার ঘটা করে তেল প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে খনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের পরেই কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রকল্প। মানুষের স্বপ্ন অংকুরেই যেন ধ্বংস হয়ে যায়। তার পর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। রহস্যের জট আজও খোলেনি। তবে নতুন করে জেগেছে স্বপ্ন, ফের খনির সম্ভাব্যতা যাচাই ও অনুসন্ধান করে চালুর দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
প্রায় চার দশক আগে পঞ্চগড়ের মানুষের আশা-নিরাশার দোলাচালে সম্ভাবনার যে স্বপ্ন হতাশায় রূপ নিয়েছিল আজ তা পুনরুজ্জীবিত করতে সর্বস্তরের মানুষ ফের প্রত্যাশার ব্যানারে সমবেত হয়েছে। সীমান্ত জনপদ তেঁতুলিয়ার শালবাহানে উদ্ভাবিত তেলকূপে তেল-গ্যাসের সম্ভবনা নিশ্চিত হওয়ার পরেও অদৃশ্য থাবায় হঠাৎ করে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এখন তেলকূপ বন্ধ হওয়ার অজানা রহস্য জানতে চায় মানুষ। তাদের প্রশ্ন- এখানে কি আদৌ তেল আছে, নাকি থাকার পরও বন্ধ হয়ে গেছে কোনো ষড়যন্ত্রে? খনি ঘিরে এই প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠেছে মানুষের মাঝে। রহস্য উদঘাটনসহ সম্ভাবনার এই ক্ষেত্রটি অনুসন্ধানে বর্তমান সরকারের কাছে দাবি স্থানীয়রা।
সবুজে ঘেরা সীমান্তবর্তী উপজেলার তেঁতুলিয়ার শালবাহান এলাকা। শান্ত-নির্জন এই জায়গাটি একসময় ছিল দেশের আলোচিত তেলকূপ প্রকল্প। ১৯৮৭ সালে ভূকম্পন জরিপে এখানে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। পরের বছর ১৯৮৮ সালের ১০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন খনন কার্যক্রম। পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট হাজার ফুট গভীর থেকে তেল উত্তোলনের। ফ্রান্সের একটি কোম্পানিকে দায়িত্বও দেওয়া হয়। বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা ঢাকার অভিজাত হোটেল থেকে হেলিকপ্টারে করে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন এখানে।
স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্পে সে সময় ব্যয় হয় ধরা হয় প্রায় শত কোটি টাকা। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচার পায় এই খনির খবর। কিন্তু আশার আলো জ্বালিয়ে মাত্র আট মাসের মধ্যেই থেমে যায় সবকিছু। হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় খনির কার্যক্রম । সংশ্লিষ্ট কোম্পানিও রাতারাতি গুটিয়ে নেয় তাদের কার্যক্রম। কিন্তু, খনি কেন বন্ধ হলো?- এর সঠিক কারণ এখনো অজানা।
খনন কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এমন অনেকেই এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তাদের স্মৃতিতে এখনও স্পষ্ট সেই সময়ের কর্মচাঞ্চল্য। ওই সময় এই খনি দেখতে ভিড় করতেন আশপাশের জেলার হাজারো মানুষ। অনেকেই জীবনে প্রথমবার কাছ থেকে দেখেছিলেন একজন রাষ্ট্রপতিকে। যুবক বয়সে কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ সাইকেল চালিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন সেই কর্মযজ্ঞ। এখনো স্থানীয়দের মধ্যে এই খনির নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। কেউ কেউ মনে করেন, একই কোম্পানি ভারতের জলপাইগুড়ি এলাকায় গিয়ে খনন চালায়। এমনও ধারণা আছে, সেখান থেকেই তেল তুলছে তারা।
বতর্মানে সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা খনির জায়গায় গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি। তবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনও রয়ে গেছে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া সেই তেলকূপের মুখ। এখনো প্রায় প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে এই কূপ দেখতে ছুটে আসেন মানুষ। এদিকে খনিটি পুনরায় চালুর দাবিতে কয়েক মাস ধরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা।
তেল খনি চালুর দাবিতে আন্দোলনকারী ও সংগঠক নাগরিক কমিটির সভাপতি মনোয়ার হোসেন হানিফ সারাবাংলাকে বলেন, ‘জাতীয় অর্থ-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে শালবাহান তেলক্ষেত্রের সম্ভাব্যতা যাচাই এখন সময়ের দাবি। এই জনপদের মানুষের আর্থসামাজিক পট পরিবর্তনে খনি চালুর দাবি সোচ্চার হচ্ছে।’ খনিটি ফের চালু করা গেলে সেটি দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন জেলা আইনজীবী সমিতির লিগ্যাল এইড সম্পাদক আহসান হাবীব সরকার।
এদিকে জেলার সামাজিক সংগঠনগুলো এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ আশা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত এই পঞ্চগড়ে সমতলের চা, নদনদীসহ ভূগর্ভস্থ নুড়ি পাথর ছাড়া এই জেলায় নেই কোনো ভারী শিল্প। ভৌগোলিক কারণে মাটিতে বালি ও পাথরের আধিক্য থাকায় সেচের অভাবে অর্থকরী ফসল তেমন হয় না। তারপরেও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মালটা, পেয়ারা, আম, কলা, বাদামসহ বিভিন্ন জাতের সব্জি আবাদে এগিয়ে যাচ্ছে পঞ্চগড়।
স্থানীয়রা চায়, দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে রহস্যে ঘেরা শালবাহান তেলকূপের রহস্য উদঘাটন। তাদের প্রত্যাশা, শুধু রহস্য উন্মোচন নয়, পুনরায় চালু হোক এই খনি। এটি চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তেলের ঘাটতি পূরণসহ বদলে যাবে এই জেলার অর্থনীতি।
The post ‘আলো জ্বেলে নিভে যাওয়া’ শালবাহান তেলকূপে ফের অনুসন্ধান দাবি first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.



