আবারও ‘প্রযুক্তি কোম্পানি’ হতে চায় পেপ্যাল
পতনমুখী শেয়ার বাজার আর বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরের মধ্যেই নিজেদের আমূল পাল্টে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম পেপ্যাল। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনরিক লোরস জানিয়েছেন, পেপ্যালকে তারা পুনরায় একটি পুরোদস্তুর ‘প্রযুক্তি কোম্পানি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান, যার মূল চালিকাশক্তি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
এআই দিয়ে ভাগ্য বদলের চেষ্টা
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত এক সভায় বিনিয়োগকারীদের সামনে পেপ্যালের এই নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন লোরস। তিনি জানান, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, ক্লাউড-নির্ভর সেবা বাড়ানো এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ এআই গ্রহণ করার সময় এসেছে। এর ফলে গেমার বা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নতুন ফিচার দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব হবে।
৪ হাজার ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা
ব্যয় কমাতে এবং সাংগঠনিক কাঠামো সহজ করতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পেপ্যাল তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ বা ৪ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পুনর্গঠন এবং এআই ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী তিন বছরে অন্তত ১৫০ কোটি ডলার সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরাসরি সিইও-র অধীনে এআই টিম
পেপ্যাল গত সপ্তাহে একটি বিশেষ ‘এআই ট্রান্সফরমেশন’ টিম গঠন করেছে, যারা সরাসরি সিইও লোরস-এর কাছে জবাবদিহি করবে। কেবল কোডিং নয়, বরং গ্রাহক সেবা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতেও এআই ব্যবহার করে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। লোরস বলেন, “এটি কেবল প্রযুক্তি হিসেবে এআই গ্রহণ করা নয়, বরং আমাদের প্রধান প্রক্রিয়াগুলোকে নতুন করে সাজানোর একটি উদ্যোগ।”
মানুষের কর্মসংস্থান ও এআই বিতর্ক
হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরের সাথে এআই ব্যবহারের ঘোষণার ফলে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমাতে মানুষের বিকল্প হিসেবে এআই-কে বেছে নিচ্ছে, যার ফলে বিশাল এক জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ে পেপ্যালের শেয়ারের দাম ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভেনমোর মতো জনপ্রিয় সেবা থাকা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধির সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটি এখন এআই-এর হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ



