স্মার্টফোন টেস্টিংয়ে চীনা ল্যাব নিষিদ্ধকরণের পথে যুক্তরাষ্ট্র

স্মার্টফোন টেস্টিংয়ে চীনা ল্যাব নিষিদ্ধকরণের পথে যুক্তরাষ্ট্র
৫ মে, ২০২৬ ২০:৪২  

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বিশেষ করে স্মার্টফোন বাজারজাতকরণের আগে বাধ্যতামূলক টেস্টিং বা ল্যাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে চীনা পরীক্ষাগারগুলোকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)। গত ৩০ এপ্রিল এক সর্বসম্মত ভোটাভুটির মাধ্যমে এই প্রস্তাবনাটি পাশ করা হয়। এর ফলে অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগলের মতো বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

চীনা ল্যাবের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা
এফসিসির তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে থাকা প্রায় ৭৫ শতাংশ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রেডিও নিঃসরণ এবং নেটওয়ার্ক সামঞ্জস্যতা পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয় চীনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারে। অনেক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের অংশ হিসেবে চীনা ল্যাবগুলো ব্যবহার করে আসছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে চীনের এসব ল্যাবের সার্টিফিকেশন আর গ্রহণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র।  

নতুন নিয়মের প্রভাব
এফসিসি কেবল চীন নয়, বরং যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন এগ্রিমেন্ট’ নেই, সেই সব দেশের ল্যাব থেকেও টেস্টিং সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। 

উল্লেখ্য, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে এ ধরনের কোনো চুক্তি নেই।  নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে: 

পুরোনো ডিভাইস: যে ডিভাইসগুলো ইতোমধ্যে সার্টিফিকেশন পেয়ে বাজারে আছে, সেগুলো অন্তত দুই বছর বিক্রি করা যাবে। দুই বছর পর পুনরায় পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে, তবে ততদিনে অনেক পুরোনো মডেল বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন: নতুন মডেলের স্মার্টফোনগুলো চীনে তৈরি হলেও সেগুলো পরীক্ষার জন্য অন্য কোনো দেশে (যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমআরএ চুক্তি আছে) পাঠাতে হবে। এতে সময় ও খরচ—উভয়ই বাড়বে।  

পাল্টা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মার্কিন গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শে এফসিসি এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের তথ্য চীনা ল্যাবে সংরক্ষিত থাকা মার্কিন সাইবার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে এবং তারা এর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্মার্টফোন তৈরির খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি  ।  সূত্র: জিএসএম এরিনা