৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাচ্ছে টেলিটক

৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ পাচ্ছে  টেলিটক
৭ মে, ২০২৬ ০০:০০  

গ্রামীণফোনের পর এবার মূল্যবান ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে ১০ মেগাহার্টজ  তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই অপারেটরটির  তরঙ্গ ফিসহ মোট প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা বকেয়া থাকার সঙ্গে অপারেটরটির হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অব্যবহৃত বা স্বল্প ব্যবহৃত তরঙ্গ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। 

অবশ্য এর আগে জানুয়ারিতে গ্রামীণফোন যখন ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গের জন্য নিলামে অংশ নিয়েছিল, তখন টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিটকের জন্যও এই ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে 

সূত্রমতে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে টেলিটককে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দের নির্দেশনা দেয়। পরদিন টেলিটক আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয় জানায়, টেলিটক তাদের বকেয়া লাইসেন্স ও স্পেকট্রাম ফি সরকারি ইকুইটিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে অর্থ বিভাগের পর্যালোচনায় রয়েছে। পরে ২৪ এপ্রিল মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে বরাদ্দ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে এই উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড বিশ্বব্যাপী উচ্চমূল্যের স্পেকট্রাম হিসেবে বিবেচিত। বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কভারেজ, ভবনের ভেতরে শক্তিশালী সিগন্যাল, কম খরচে নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ফাইভজি সেবার উপযোগিতার কারণে এই ব্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। বাংলাদেশে মোবাইল সেবার জন্য এ ব্যান্ডের ৪৫ মেগাহার্টজ বরাদ্দ রয়েছে, যার মধ্যে ২০ মেগাহার্টজ এখনো আইনি জটিলতায় অব্যবহৃত।

স্পেকট্রামের মূল্য প্রতি মেগাহার্টজ ২৩৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিলামে একমাত্র অংশগ্রহণকারী গ্রামীণফোন যে দামে ১০ মেগাহার্টজ কিনেছিল, সেই একই হার।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকার স্বল্পমেয়াদে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে এখন মাত্র ৫ মেগাহার্টজ অবশিষ্ট থাকবে, যা বড় গ্রাহকভিত্তি থাকা রবি ও বাংলালিংক-এর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উচ্চমূল্যের কারণে তারা সর্বশেষ নিলামে অংশ নেয়নি।

বর্তমানে টেলিটকের হাতে ৯০০, ১৮০০, ২১০০ ও ২৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড মিলিয়ে মোট ৫৫.২ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম রয়েছে। তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ, অর্থাৎ প্রতি লাখ গ্রাহকের বিপরীতে রয়েছে ০.৮১ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের ৮.৪৪ কোটি গ্রাহকের জন্য রয়েছে ১৩৭.৪ মেগাহার্টজ (প্রতি লাখে ০.১৬ মেগাহার্টজ), রবির ৫.৭৪ কোটি গ্রাহকের জন্য ১২৪ মেগাহার্টজ (০.২২ মেগাহার্টজ) এবং বাংলালিংকের ৩.৭৪ কোটি গ্রাহকের জন্য ৮০ মেগাহার্টজ (০.২১ মেগাহার্টজ) স্পেকট্রাম রয়েছে।

বিটিআরসির মান পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই টেলিটকের ভয়েস ও ডাটা সেবার মান প্রতিযোগীদের তুলনায় দুর্বল। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র প্রায় ১ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত করতে পেরেছে।

এছাড়া ২০২২ সালের নিলামে কেনা ২৩০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৩০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম এখনো ব্যবহার না করায় স্পেকট্রাম ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

টেলিটকের মোট বকেয়ার মধ্যে রয়েছে ১২০ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি, ১০২ কোটি টাকা রাজস্ব ভাগাভাগি বাবদ, ৫,৫০৬ কোটি টাকা স্পেকট্রাম ফি এবং অন্যান্য খাতে প্রায় ৬২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গণমাধ্যমে বলেন, বেসরকারি অপারেটরদের কঠোর নিয়ম মানতে হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই একই বাধ্যবাধকতার মুখোমুখি হয় না, যা বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। 

তবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, স্পেকট্রাম ফি সরকারি ইকুইটিতে রূপান্তরের শর্তেই এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে না, কারণ অর্থ এক সরকারি সংস্থা থেকে আরেকটিতে ইকুইটি বিনিয়োগ হিসেবে স্থানান্তর হবে।

ডিবিটেক/এফএ/ইকে