কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ‘রিয়েল টাইম হিরো’

কামরুল ইসলাম সিদ্দিক  ‘রিয়েল টাইম হিরো’
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২৯  

কিংবদন্তি প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে তৃণমূলের সঙ্গে শহুরে মানুষের সংযোগ স্থাপনে ‘রিয়েল টাইম হিরো’ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা তারেক বিন আজিজ। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থেই তাঁর কর্ম ও স্মরণকে গবেষণা ও স্টাডিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

তারেক বিন আজিজ বললেন, “তিনি ম্যাটার অব স্টাডি। তিনি গবেষণা পর্যায়ের মানুষ। তাঁকে নিয়ে চর্চা রুটিন ওয়ার্ক হওয়া উচিত। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবার সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার। তা না হলে আগামীতে আর কেউই ‘রিলে রেসের ব্যাটনে’ অংশ নিতে পারবে না।”

২০ জানুয়ারি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ৮১তম জন্মদিন স্মরণে প্রকৌশলী থেকে লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত এই ব্যারিস্টার বলেন, তিনি ছিলেন দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন মানুষ। কথার নয়, কাজের মানুষ। ছিলেন প্রচারবিমুখ। কিন্তু যিনিই তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তিনিই আলোকিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও জীবন থেকে শিখেছি। তিনি আমার মতো অনেকের জন্যই আলোকবর্তিকা। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি লিজেন্ডারি। সুতরাং তাঁর জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও তিনি জীবিত অবস্থার মতোই এখনও রিলেভ্যান্ট।”

তারেক বিন আজিজ আরও বলেন, তাঁর পরিকল্পনা ও কর্মে পল্লি কাঠামোর উন্নয়নের ফলে আজ গ্রাম ও শহরের দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছে। তবে এখনও মূল সমাজ পল্লির সঙ্গে যুক্ত। শুধু বাংলাদেশের প্রকৌশল খাত নয়, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও রয়েছে তাঁর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা। তাঁর হাত ধরেই তৈরি হওয়া অনেক প্রকৌশলী আজও দেশে-বিদেশে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন।

কিন্তু আজও এই কর্মবীরের জাতীয় স্বীকৃতি না পাওয়াকে ‘রাষ্ট্রের দৈন্যতা’ উল্লেখ করে তারেক বিন আজিজ বলেন, আগামীতে তিনি অবশ্যই সেই স্বীকৃতি পাবেন। তিনি বলেন, “প্রকৌশলী হয়েও তিনি সকল মানুষের জন্য কাজ করেছেন। প্রচারবিমুখ, সরল ও দারুণ কর্মপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তাঁকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়া তাঁর জন্য কোনো বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের দীনতা।”

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “গুণীর কদর না করলে গুণী জন্মায় না। তাই তাঁর মতো গুণীজনকে কদর দেওয়া মানেই আমাদের প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দেওয়া।”

তারেক বিন আজিজ বলেন, তাঁর জীবন ও কর্মকে সামষ্টিকভাবে চর্চার মাধ্যমে সামনে আনতে পারলে ভবিষ্যতের প্রকৌশলীরা পাইওনিয়ার হয়ে উঠবে। “আমি আমার ক্যারিয়ারে তাঁকে কাছ থেকে পেয়ে ঋদ্ধ হয়েছি। এখনও তাঁকে কর্মময় জীবনে প্রতিফলিত রাখতে চাই। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তিনি একজন রোল মডেল। তাঁর কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ মানুষ এখনও তাঁকে ভালোবাসে, ভবিষ্যতেও ভালোবাসবে।”

ডিবিটেক/ইকে/এমইউএম