নয়া সংস্কৃতিক বন্দোবস্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ

নয়া সংস্কৃতিক বন্দোবস্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ
২ আগষ্ট, ২০২৫ ১৫:৩৩  
২ আগষ্ট, ২০২৫ ২৩:৩৪  

সেমিনার ও কবিকন্ঠে কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উদযাপন করলো কবিতা বাংলাদেশ। ২ আগস্ট, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার হলে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর  মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তোলার পাশাাপাশি নয়া সংস্কৃতিক বন্দোবস্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সাহিত্য-সংস্কৃতি জুলাই বিপ্লবের পাহারাদার হিসেবে জাগ্রত থাকবে বলে মনে করেন কবিরা। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি, কবিতা, স্লোগান এবং শহীদদের বীরত্বকে সংরক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ‘হেরিটেজ মিউজিয়াম’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক শাহীন হাসনাত।

প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। ড.ফজলুল হক তুহিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনা করেন ড. মাহবুব হাসান, কবি জয়নুল আবেদীন আজাদ ও ড. ইয়াহইয়া মান্নান।

সৃষ্টি জগতকে ধারণ ও বিকাশের ক্ষেত্রে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চাকে বন্দেগীর কাজ উল্লেখ করে সেমিনারের প্রধান অতিথি প্রফেসর ড.চৌধুরী মাহমুদুল হাসান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া সাহিত্য সংস্কৃতি পূর্ণতা পায় না। এর মাধ্যমে সংস্কৃতি উৎপাদনশীল হবে। তবে পাশ্চাত্যের মতো স্রষ্টাহীনতার মাধ্যমে মারণাস্ত্র তৈরিতে বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তির ব্যবহার করার দরকার নেই। এজন্য আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে। কেননা, তাদের উৎপাদনশীলতা জলবায়ু ধ্বংস করছে। ধর্মযাজকের অপরাধে আমাদেরকে স্রষ্টার থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। তবেই আর কোনো গাজা সৃষ্টি হবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে মানুষে মানুষে মূল্যবোধ ও ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে।

সংস্কৃতি ও সভ্যতার ব্যবধান তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, সভ্যতার ভিত্তিতে একটি সিভিলাইজেশ্যন হয়। তাই এটি সংস্কৃতির কোনো অংশ নয়। সংস্কৃতি হাজার বছরের ঐতিহ্য। সংস্কৃতির ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস তথা ধর্ম।  এর ফলে আমাদের দেশে ঐক্য সবচেয়ে বেশি। মানবিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে না পারলে; অসাম্য, ঘৃণা বা বস্তুতে আটকে গেলে এই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই আমাদের ইনসাফ পূর্ণ সাংস্কৃতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে হবে।

প্রবন্ধ আলোচনায় ড. মাহবুব হাসান বলেন, হাজার বছর আগেই আমরা যে সাংস্কৃতিক চৈতন্য ধারণ করেছি তা ইউরোপীয় সংস্কৃতি থেকে এগিয়ে। আমাদের চারপাশে অমুসলিম দেশ। তাই আমাদের ধর্মবিশ্বাস ও স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বজায় রাখতেই আলাদা স্বাধীন দেশ গড়ে তুলেছি। 

কবি ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব জয়নুল আবেদীন আজাদ বলেন, বিজ্ঞান প্রযুক্তিও বন্দেগীর কাজ; সৃষ্টি জগতকে ধারণ করবে বান্দারা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সৃষ্টিশীল করেছে। সংকীর্ণতার নয় আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করতে হবে। ত্রুটিধর নয়; সংশোধন ও মানবিকতাই হোক আমাদের নতুন সাংস্কৃতিক বন্দবোস্ত। 

পঠিত প্রবন্ধে শাহীন হাসনাত বলেন,  প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে একটি হেরিটেজ মিউজিয়াম গড়ে তুলতে হবে।যেখানে থাকবে আমাদের জাতিসত্তার পরিচয়। নৃতাত্বিক পরিচয়ের ধারাক্রম ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্রের নির্মান ও বিকাশ পর্ব। অতিক্রান্ত রাজনৈতিক ইতিহাস। সাংস্কৃতিক বিকাশের পরাম্পরার তথ্যচিত্র। যে কেউই হেরিটেজ মিউজিয়াম পরিদর্শনের মাধ্যমে জানতে পারবে বাংলা সালতানাতের ঐশ্বর্যের গৌরবগাঁথা। 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল কবিকন্ঠে কবিতাপাঠ।