২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট 

১১ দিন সাইবার পেট্রলিংয়ে রেড অ্যালার্ট

১১ দিন সাইবার পেট্রলিংয়ে রেড অ্যালার্ট
২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৭:৩১  
২৯ জুলাই, ২০২৫ ১০:২৬  

আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে গতি বাড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, সিটি এসবি, বিভাগীয় উপ-পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের স্পেশাল পুলিশ সুপারসহ দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)।  সহিংস নৈরাজ্যের শঙ্কায় ২৮ জুলাই, সোমবার দেশের বিভিন্ন পুলিশের এই বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

চিঠির ভাষ্য অনুসারে—‘এই সময়ে বিতর্কিত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে দেশজুড়ে নৈরাজ্য তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে অথবা উত্তেজনা ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা করা হতে পারে।’

এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব ইউনিটকে নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ অভিযান চালাতে বলা হয়েছে ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ে সবিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধিতে। 

চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও অনলাইনে ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’ নামের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দলটির সকল ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দেশ ও বিদেশে ছদ্মবেশে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র—যাদের মধ্যে অনেকেই ভিন্ন নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। অনলাইনে ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’  তৈরি করে টেলিগ্রাম, ইউটিউব এবং ফেসবুকভিত্তিক এই চ্যানেলগুলো থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে নিয়মিতভাবে। এসব ভার্চুয়াল প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও। 

এসব বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশ থেকে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। যারা দেশে-বিদেশে বসে পরিস্থিতি অশান্ত করার পরিকল্পনায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কঠোর হাতে দমন করা হবে।

তবে পুলিশ কি একাই এ কাজ করতে সক্ষম কিংবা এ ধরনের সাইবার পেট্রোলে কার নেতৃত্ব থাকা উচিত প্রশ্নের জবাবে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, বিটিআরসি, এনটিএমসি এবং পুলিশ—তিন সংস্থার সমন্বয় ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। তবে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পুলিশকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে।

ডিজিবাংলাটেক ডট নিউজ-কে তিনি বলেন, বিটিআরসি নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হলেও তদন্তে তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এনটিএমসি নজরদারি ও ডাটা বিশ্লেষণে দক্ষ হলেও মাঠপর্যায়ে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে কেবল পুলিশই। তাই যৌথভাবে কাজ করলেও নেতৃত্বের প্রশ্নে পুলিশের ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে।

তানভীর জোহা আরও বলেন, “সাইবার পেট্রোল কোনো এক সপ্তাহের অভিযান নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত। আধুনিক এআই টুল, দক্ষ সাইবার তদন্তকারীর দল এবং বিটিআরসি-এনটিএমসি-পুলিশের মধ্যে সমন্বিত কমান্ড গঠন জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত গুজব ও উসকানি মোকাবিলায় কঠোর সাইবার পেট্রোল এখন সময়ের দাবি। কারণ অনলাইনের অপপ্রচার দ্রুতই বাস্তব অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, প্রচলিত কথায় ‘সাইবার প্যাট্রলিং’ বলা হলেও প্রযুক্তির পরিভাষায় এ ধরনের কথা অনুপস্থিত। সাধারণত সাইবার মনিটরিং বা অনলাইন জগতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা বোঝানোর জন্য ‘সাইবার প্যাট্রলিং’ শব্দদ্বয় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সোজা কথায় বিশেষ কোনো ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনলাইনের বিশাল জগৎ থেকে কোনো তথ্য বা বিষয় অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণে রাখাকে বোঝানোকে সাইবার প্যাট্রলিং বলা হয়ে থাকে। সাধারণত কোনো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, কার্যক্রম মনিটরিংয়ে রেখে করণীয় ঠিক করতে সাইবার মনিটরিং করে থাকে।