সিসিএ: খরচ কমানোর পথ খুঁজছে সরকার
ডিজিটাল স্বাক্ষরতায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ তাদের চেয়েও পিছিয়ে আছেন আমাদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাই আমরা সাইবার সুরক্ষায় ব্যয়কে বাড়তি খরচ মনে করেন উপদেষ্টা, সচিবরা। কিন্তু এই বাড়তি খরচ করায় আমাদের ডিজিটাল ইকোনোমিতে যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে আনতে ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রতি খরচ ৪০ টাকা এবং সইয়ের জন্য দঙ্গলের খরচ ৩ হাজার টাকা থেকে কমানোর পথ খুঁজছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। একইসঙ্গে এসএসএল সার্টিফিকেচের মতো জরুরী ক্ষেত্রে তহবিলগত সঙ্কট নিরসনের বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডিজিটাল সই এর সম্প্রসারণ বাড়াতে বছর জুড়ে সিসিএ থেকে যতগুলো সার্টিফিকেট বা ডক্যুমেন্ট তৈরি হয়; এর প্রতিটির বিপরীতে বিল না নিয়ে প্রতিটি বিভাগ সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বার্ষিক ফির ভিত্তিতে করতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সরকারি কাজের শৃঙ্খলা এবং সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করকেই এমনটা করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো পাবলিক কী ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পিকেআই) সামিট- ২০২৫। সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে কেবল চাকরির আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র সত্যায়নের প্রয়োজনীয় জনবল ও পরীক্ষার ক্যাপাসিটির ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই প্রস্তুত হতে পারছে ফেইক ডক্যুমেন্ট। সরকারের প্রতিটি সনদ ডিজিটালি সত্যায়িত হওয়ার দরকার।
দেশের মোট সরকারি ডক্যুমেন্টেশনের ডিজিটালকরণ এখনো ০.১ শতাংশের বেশি নয় উল্লেখ করে ডিজিটাল দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকতে ডিজিটাল সই বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেছেন, বিদেশে যে কোনো ডক্যুমেন্ট এআই কিংবা ন্যাশনাল অ্যালগরিদম অথবা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সত্যায়ন করে। তাই যখনই কোনো ডক্যুমেন্টে ডিজিটাল সই থাকবে না, সেটা বাতিল হয়ে যাবে। এই যেমন দুবাই যে ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে সেখানে ডক্যুমেন্ট আপলোড করার কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায় আবেদনটি খারিজ হয়ে গেছে। কেননা তাদের ব্যাকগ্রান্ড যাচাইয়ের সফটওয়্যারটি ব্লকচেইন ভিত্তিক। সেখানে আমাদের ব্যবসায়ীদের যখন ডিজিটাল ডক্যুমেন্টগুলোর অ্যাকিউরিসি ঠিক না থাকায় সেটা বাতিল হয়ে যায়। আমরা তখন এটাকে রেসিজম বলে অভিযোগ করি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই সমস্যা সময়ের সঙ্গে বাড়বে। আগামীতে স্ক্যান করা সনদও আমলে নেবে না। সেক্ষেত্রে আমরা যেসব সনদ দেই বা যে ফরমগুলোর তৈরি করি এর সব জায়গায় ডিজিটাল সিগনেচার ও সিল ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে খরচ কমানোর মডেল নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। এই ব্যয় সঙ্কুলানের ব্যবস্থা হলে এর ব্যবহার বাড়বে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ সহকারী বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে, ১২টি সিটি কর্পোরেশন, কয়েকশত পৌর কর্পোরেশন রয়েছে। আছে ৫৭টি মন্ত্রণালয় এ প্রত্যেকটা অফিস, মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ প্রতিদিন প্রচুর ডকুমেন্ট তৈরি করে। একই সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন শত শত ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে। শিল্প মন্ত্রণালয় ট্রেড মার্ক তৈরি করে, শিক্ষা বোর্ডগুলো সার্টিফিকেট তৈরি করে, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা হাসপাতালগুলো বিভিন্ন সার্টিফিকেট তৈরি করে। এছাড়া এনআইডি কর্তৃপক্ষ, জন্ম বা মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন কিংবা পাসপোর্ট কতৃপক্ষ প্রত্যেকেই ডকুমেন্ট তৈরি করে। এগুলো ডিজিটাল হওয়া দরকার। ব্যক্তি যে ম্যানুয়াল সার্টিফিকেট জমা দিচ্ছে, এই ম্যানুয়াল সার্টিফিকেট ভেরিফাই করার মত জনবল নেই। তাই আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কিভাবে ডকুমেন্টেড বা সার্টিফিকেট ওরিয়েন্টেড করা যায় সেজন্য দায়িত্ব নিতে হবে।
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, যতদিন যাবে বিদেশি এজেন্সি, সংস্থা এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যানুয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা বন্ধ করে দিবে। কারণ তারা প্রথমে এআই, ব্লকচেইনসহ প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্টিফিকেটগুলো যাচাই-বাছাই করবে। তখন ম্যানুয়ালি সার্টিফিকেটগুলো অনুমোদন হবে না। আর এই সমস্যাগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে। তাই আমাদের সিসিএ থাকাটা জরুরি।
বাংলাদেশের জনগণকে পাবলিক কী ইনফ্রাস্ট্রাকচার (পিকেআই) বিষয়ক উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে ডিজিটাল সিগনেচার বেস্ট ইউজার ক্যাটাগরিতে সরকারের যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও রবি আজিয়েটা লিমিটেডকে ই সাইন ব্যবহারের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। রবি আজিয়েটার পক্ষে বিশেষ সম্মাননা স্বারক গ্রহণ করেন হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম।
অনুষ্ঠানে সিসিসিএ নিয়ন্ত্রক (যুগ্মসচিব) এ.টি.এম. জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আইসিটি ডিভিশনের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।







