‘গার্লস প্রায়োরিটি গ্রুপ’ অ্যাডমিন কারগারে
বিভিন্ন হ্যাকারের সাথে যোগসাজশে অন্য গ্রুপের আইডি হ্যাকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ফেসবুকভিত্তিক ‘গার্লস প্রায়োরিটি গ্রুপ’ এর অ্যাডমিন তাসনুভা আনোয়ারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে হওয়া মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিনে ছিলেন অভিযুক্ত তাসনুভা আনোয়ার। বুধবার (২১ আগস্ট) আদালতে জামিনের জন্য গেলে তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।
অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন হ্যাকারের সাথে যোগসাজশে অন্য গ্রুপ আইডি হ্যাকসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ছিল।
এ ব্যাপারে সিএমপির এসি প্রসিকিউশন কাজী শাহাবুদ্দীন মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বেআইনিভাবে ছদ্মনামে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফেসবুকের নির্দেশ ও তথ্য পরিকাঠামোতে প্রবেশে করে মিথ্যা ও ভয়ভীতিকর তথ্য প্রকাশ ও সহায়তা করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে করা মামলায় আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদ Dirty anonimas Army নামে একটি হ্যাকিং গ্রুপ পরিচালনা করতো। সালমান অবশ্য অনেকদিন ধরে কারাগারে আছেন। সালমানকে দিয়ে তাসনুভা এসব হ্যাকিংয়ের কাজ করতো।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুজ্জামান জানান, উচ্চ আদালত থেকে নেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন তাসনুভা। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১২ জুন কাউন্টার টেরোরিজমের একটি ইউনিট নগরের চিটাগাং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে তাসনুভাকে আটক করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়। সেসময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেজ, গ্রুপ, ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘হ্যাক’ করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাসুনভা আনোয়ারকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
তার আগে ২৬ মে ইসতিয়াক হাসান নামে এক ব্যক্তি নগরের পাঁচলাইশ থানায় ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গার্লস প্রায়োরিটি গ্রুপের অ্যাডমিন তাসনুভা আনোয়ার ছাড়াও আসামি করা হয় একই গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ট আমেনা চৈতী, ফেসবুক হ্যাকার সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদ, নাদিয়া আকতার রুমিকে। এদের মধ্যে সালমান ওয়াহিদ আগেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন অপর এডমিন নাদিয়া আক্তার রুমি। পলাতক আছেন মামলার আরেক আসামি আমেনা আক্তার চৈতি।