স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতেই আইসিটি ক্যাডার বাস্তবায়ন দাবি কম্পিউটার সোসাইটির
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গত ৪ মাসে সাইবার সিকিউরিটি,ডাটা সেন্টার ম্যানেজমেন্ট, ইথিকাল হ্যাকিং ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইটি পেশায় কর্মরত বিসিএস এর সর্বমোট ৮৮৭ (আটশত সাতাশি) জন সদস্যকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশর আইসিটি পেশাজীবীদের অন্যতম প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি (বিসিএস)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব তথা তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও দেশের আইটি পেশাজীবিদের বিভিন্ন খাতে পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বিকাশে বছরব্যাপী এ ধরণের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটির বর্তমান নির্বাহী কমিটি।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার প্রশিক্ষণার্থীদের ভার্চুয়াল সনদপত্র বিতরণ (ভার্চুয়াল) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৪ জন প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
এসময় বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পরিচালক এ. কে. এম. আফতাব উল ইসলাম এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন সংযুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিসিএস এর ট্রেজারার ড. মুহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম।
সভার শুরুতে বিসিএস এর জেনারেল সেক্রেটারি আবদুর রহমান খান জিহাদ সূচনা বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ডিজিটাল অবকাঠামো বিনির্মাণে আইসিটি ক্যাডার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মন্ত্রীর কাছে জোরালো দাবী উত্থাপন করেন।
এছাড়াও সংগঠনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক), প্রফেসর ড. মুহাম্মদ নূরুল হুদা প্রশিক্ষণ রিপোর্ট পাঠ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মেস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির যুগোপযোগি প্রশিক্ষণ আয়োজনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তিনি সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেন।
এছাড়া কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর মৌলিক জ্ঞানের ভীত আরও সমৃদ্ধ করার জন্য শিশু কিশোরদের উপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজন করার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
সংগঠনটির সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম ক্যাডারকে আরোও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইসিটি ক্যাডার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রবিবার থেকে এ বিষয়ে কাজ শুরু করবেন বলেও অনুষ্ঠানে আশ্বাস দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
সভায় বিশেষ অতিথি এ. কে. এম. আফতাব উল ইসলাম আইসিটি শিল্প বিকাশে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর আলোকপাত এবং আইটি পেশাজীবীদের জন্য বিসিএস এর এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগকে সময়পোযোগী ও ফলপ্রসূ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
অপর বিশেষ অতিথি ড. এম মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আইসিটি খাতের ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপশি দেশের ইনস্যুরেন্স খাতকে ডিজিটালাইজেশন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
অতিথিদের বক্তব্য শেষে সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন অনুষ্ঠান সমাপনী বক্তব্যে ডিজিটাল বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটিকে আরোও শক্তিশালী করার জন্য সভায় উপস্থিত সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
আর সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিসিএস জয়েন্ট সেক্রেটারি (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া।