যে তিন কারণে দেশের ইন্টারনেটে গতি ফিরতে বিলম্ব হচ্ছে

২৫ জুলাই, ২০২৪ ২২:৩৫  

টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২৩ জুলাই থেকে ঢাকায় এবং ২৪ জুন থেকে দেশজুড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালুর ঘোষণা দেয় সরকার। ওই ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চালু করে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরগুলো। সবশেষ ২৫ জুন বিকেলে নির্দেশনা দেয়া হয় গুগল ক্যাশ সার্ভার খুলে দেয়ার। তবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ৪-৫ ঘণ্টা পরও ইন্টারনেটে ততটা গতি পাচ্ছেন না গ্রাহক। একইভাবে হোয়াটস্যাপে বার্তা আদান-প্রদান করা গেলেও ছবি, অডিও এবং ভিডিও শেয়ার করা যাচ্ছে না।

কেন এমন হচ্ছে সেই কারণ খুঁজতে গিয়ে বিটিআরসি ও আইআইজি সূত্রে জানাগেছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হলেও তা আগের মতো অবস্থায় নেই। কেননা, যখন টানা পাঁচ থেকে সাত দিন ব্যান্ডউইথ না থাকে, তখন কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন) সমৃদ্ধ হতে বা আগের অবস্থায় ফিরতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় নেয়। সে কারণে এখন ইন্টারনেটের গতি ধীর পাওয়া যাচ্ছে। তাই দু–এক দিনের মধ্যেই গতি স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে।

এছাড়াও ব্রডব্যান্ডেও ওপর এখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের চাপ পড়ায় ইন্টারনেটের গতি কম হওয়ার এটা একটা বড় কারণ বলে জানিয়েছেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক। তিনি বলেছেন, মোবাইল ইন্টারনেটের ১০ কোটি ব্যবহারকারী সবাই এখন ব্রডবান্ডের নেট ব্যবহার করছে। তারা নিজেদের মধ্যে শেয়ার করছে। একজনের জায়গায় দেখা যাচ্ছে পাঁচজন ব্যবহার করছে। কিন্তু এত ব্যান্ডউইথ তো আমাদের নেই। তবে  গুগলের যেহেতু সব সেবা চালু হয়ে গেছে, এখন আস্তে আস্তে ইন্টারনেটের পরিস্থিতি স্মুখ হবে।

গুগল ক্যাশ সার্ভার চালু করার পরও পূর্ণ্যোদ্যোমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি ফিরে না আসা নিয়ে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপকালে জানাগেছে, ২৫ জুলাই বিকেলে গুগল সিডিএন খুলে দেয়া হলেও বাংলাদেশে থাকা অন্যান্য সিডিএনগুলো। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মেটা, আকামাই ও বাইসন। এই সার্ভারগুলোতে রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, কমিউনিকেশন ও গেমিং সহ, বিভিন্ন বাণিজ্যিক পোর্টালগুলোর ওয়েব কন্টেন্ট। ফলে, এই সার্ভারগুলো বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের নেটওয়র্ক থেকে ফেসবুক, এক্স, ফ্রিফায়ার, পাবজি ইত্যাদি চালু হবে না। তবে ভিপিএন দিয়ে অনেকেই এগুলো ব্যবহার করছেন। ফলে ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথের ওপর চাপ বেড়েছে এবং গতি আগের মতো উঠছে না।

এদিকে মোবাইলের ফোর–জি নেটওয়ার্ক চালুর ব্যাপারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোবাইল ইন্টারনেট ছাড়ার বিষয়ে ২৬ ও ২৭ জুলাই মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সেই বৈঠকের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২৮ কিংবা ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ফোর–জি সংযোগ আবার চালু করে দেয়া হবে।

অপরদিকে অপারেটরতের সূত্রে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফোর–জি চালু নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে আলোচনার কোনো বার্তা পাননি তারা। সূত্রমতে, বার্তা দেওয়া না হলেও বিটিআরসি মোবাইল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তি ও প্যারামিটার নিয়ে এ দিনে পরীক্ষা চালিয়েছেন।