ভেপিং প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈঠক, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে চায় সরকার

১৪ মার্চ, ২০২৪ ১৬:৩০  

বিশ্বে ১৮৩টি সদস্য দেশের অংশগ্রহণে ৫-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডব্লিওএইচও এফসিটিসি কপ-১০ সভায় পরিবেশ সুরক্ষা সংক্রান্ত আর্টিক্যাল ১৮ এর অধিকতর বাস্তবায়নে সিগারেট ফিল্টার ও ভেপোরাইজারকে দ্রুত নিষিদ্ধের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি’র সদস্য হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশের।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সাথে বৈঠক করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আগামী ২৩-২৯ এপ্রিল কানাডায় অনুষ্ঠেয় ‘ইন্টারগভমেন্টাল নেগোসিয়েশন কমিটি’ বা ‘আইএনসি’ এর চতুর্থ সম্মেলনে সিগারেট ফিল্টার এবং ভেপোরাইজারকে হিসেবে নিষিদ্ধ করা, সিগারেট ফিল্টারকে ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা এবং তামাক কোম্পানিগুলোর এক্সটেন্ডেড প্রোডিউসার রেস্পন্সিবিলিটি (ইপিআর) কার্যক্রমকে প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

সচিবালয়ে ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিং এর প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে পরিবেশ মন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে কাজ করছে সরকার। বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এখন থেকে সরকারের একাজে সহায়তার জন্য ঢাকার বস্তিগুলো থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবে ইউএসএআইডি।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে বিভিন্ন খাতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদন হবে। ভবিষ্যতে শুধু শহর না, সকল এলাকার বর্জ্যেরই ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এগুলো সংগ্রহ করে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে সার উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। মন্ত্রী বলেন, বর্জ্য থেকে মানসম্পন্ন সার পাওয়া গেলে আমরা আমদানি কেন করবো? বর্জ্য থেকে সার উৎপাদন শুরু হলে সার আমদানি কমে যাবে। এতে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ১০০ কর্মদিবসের কর্মসূচির মধ্যে ন্যাশনাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পুরো ইকোসিস্টেমের দিকে আমরা তাকাচ্ছি। কিভাবে সেটার উন্নয়ন ও কার্যকর করা যায় তা ভাবা হচ্ছে। আপাতত কঠিন বর্জ্য বা সলিড ওয়েস্ট নিয়ে কাজ হবে। পর্যায়ক্রমে মনুষ্য বর্জ্য, ট্যানারি বর্জ্য, ই-বর্জ্য, মেডিক্যাল বর্জ্য নিয়েও কাজ হবে। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিককেও পুনর্ব্যবহার করার উদ্যোগ নেয়া হবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় এখন থেকেই জায়গা চিহ্নিত করে জমি অধিগ্রহণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে।

সাভারের ট্যানারির বর্জ্য ব্যবস্হাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেখানকার বর্জ্য থেকে যে ক্রোমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সুরাহা করতে চায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ন্যাশনাল ফোকাল পারসন (ইন্টারগভামেন্টাল নেগোশিয়েনস কমিটি অন প্লাস্টিক পলিউশনস) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সুকান্ত গুপ্ত অলোক, আত্মা’র আহ্বায়ক মতুর্জা হায়দার লিটন ও সহ-আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বৈঠকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস মো. হাসান শাহরিয়ার।