ব্যান্ডউইথ ক্যাপ : বিঘ্নিত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা

৩০ এপ্রিল, ২০২০ ২২:৫৮  
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে নিরবিচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিল পরিশোধে বেসরকারি আইআইজি ও এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ লাইন ক্যাপ করে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করায় গ্রাহক পর্যায়ে এই বিড়ম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন আইএসপি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিল আদায়ে গত কয়েক দিন ধরে বিনা নোটিশে অথবা এক দিনের নোটিশে ব্যান্ডউইথ ক্যাপ শুরু করেছে বেসরকারি দুই আইআইজি প্রতিষ্ঠান। এতে গ্রাহকদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তারা বলছেন, অধিকাংশ করপোরেট অফিস বন্ধ থাকা এবং লকডাউন পরিস্থিতিতে ৭০ শতাংশেরও বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে বিল পাননি তারা। ফলে চাওয়া মাত্রই আইআইজি’র বিল পরিশোধ করা তাদের জন্য কঠীন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যান্ডউইথ ক্যাপ করা হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে গ্রাহক পর্যায়ে বিল পাওয়া আরো কঠীন হয়ে যাবে। নতুন করে ব্রডব্যান্ড গ্রাহক হারানোর ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে মন্তব্য করে আইএসপি সেবাদাতারা বলছেন, এতে গ্রাহকের কাছ থেকে বিল পাওয়া যাবে না। প্রকারান্তরে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে, আইটিসি’র কাছ থেকে বাকেয়া পরিশোধের তাগাদা দিতে চাপের মুখে থাকার কথা জানিয়েছেন আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে ব্যান্ডউইথ ক্যাপিং এর কথা স্বীকার করতে নারাজ তারা। এমন পরিস্থিতিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ডিজিবাংলা-কে বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিটিআরসি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভূক্তভোগীদের দাবি, ‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, বিটিআরসি’র নির্দেশনা ছাড়া বিলের জন্য সেবা বিচ্ছিন্ন করা নীতি বিরুদ্ধ হলেও কোনো ঘোষণা ছাড়াই এমন  বিরুপ আচরণ করছে বেসরকারি আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলো। পেমেন্টের জন্য চিঠি দিয়ে সার্ভিস ডিগ্রেডেসন করছে। লকডাউনের সময়ে যখন ব্যাংক মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য খোলা থাকে; এর মধ্যে যাবতীয় কালেকশন করে ব্যাংকে জমা দিয়ে আপস্ট্রিমকে চেক ইস্যু করাটা কতটা সহজসাধ্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইএসপি সেবাদাতারা। তাদের ভাষ্য, গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায় যখন দায়; লকডাউনে সব বন্ধ; এমন পরিস্থিতে চাহিবামাত্র টাকা পরিশোধ করতে না পারলে সংযোগ বিচ্ছন্ন করা বা লাইন ক্যাপিং করা প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপন্থী। কেননা, করোনার লকডাউন পরিস্থিতিতে তিনি বিল আদায়ে সহনশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতারা কারও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। মূলত: বেসরকারি দুইটি প্রতিষ্ঠান আইআইজি সেবা দেয়ায় অনেকটাই তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন আইএসপি সেবাদাতারা। কেননা, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বললেই রোষাণলে পড়ারও ভয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন আইআইজি সেবা লাইসেন্স দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতটিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।