বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিতে স্বাভাবিক হলো আগরতলা ইমিগ্রেশন
বাংলাদেশ থেকে আখাওড়া দিয়ে ভারতযাত্রায় ‘ইন্টারনেট সার্ভার’ ডাউন হওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছিলো আগরতলার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা। তবে দুর্ভোগের ১৮ ঘণ্টার মাথায় ‘বায়োমেট্রিক’ পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
বিজিবি-বিএসএফ এবং বাংলাদেশি ইমিগ্রেশনের আলোচনার মাধ্যমে শুক্রবার রাত ৯টায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বস্তি মিলেছে যাত্রী ও পর্যটকদের।
এর আগে আশরাফুল ইসলাম রানা নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে কিছু ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আখাউড়া ইন্টিগ্রেট চেকপোস্ট পার হয়ে ত্রিপুরা সীমান্তে তীব্র জটে পড়েছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ২৯ এপ্রিল (শুক্রবার) বেলা ১১টা থেকেই ভারতীয় ইমিগ্রেশনে চাপ বাড়তে থাকে বাংলাদেশিদের। মাঝে গতরাত ৮টার পর যাত্রীদের বাংলাদেশ সীমান্তে ফেরত যেতে অনুরোধ করা হয়। সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক যাত্রী। বাংলাদেশি যাত্রীদের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (৩০ এপ্রিল ভোর ৪টা) লাইনে দাঁড়িয়ে, শুয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ইমিগ্রেশনের জন্য ত্রিপুরা সীমান্তে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গত ১৮ ঘণ্টায় প্রায় ৫-৬শ’ বাংলাদেশি যাত্রীকে এখনও এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ডাল-ভাত ও শিশুদের জুস সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশিরা। তবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এই তীব্র জটের কারণে অনেকেই পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে পারেন নি। যাত্রীরা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।’
আখাউড়া ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়,প্রতিদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। করোনাকালীন সময়ের শুধু মেডিকেল, ব্যবসা ও কুটনৈতিক ভিসাধারীরা এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন সহজে পার হতে পারলেও আগরতলা ইমিগ্রেশনে বিপাকে পড়ছেন যাত্রীরা। তবে রাতেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। গতকাল গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৭৭ জন যাত্রী পারাপার হয়েছে।