স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎসে কর কর্তনে গত বছরের ৬ অক্টোবরে
অনলাইনে ই-টিডিএস কার্যক্রম শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই ইলেক্ট্রনিক টিডিএস সিস্টেম চালু করার পর গত সাড়ে পাঁচ মাসে মোট ২৫৯ কোটি টাকার উৎসে কর জমা পড়েছে। ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব মিলিয়ে ৫৩টি খাত থেকে আদায় হচ্ছে উৎসে কর।
ই-টিডিএসের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত টেলিকম খাতের গ্রামীণফোনসহ দেশের মোট ৩ হাজার ৬৮৫টি প্রতিষ্ঠান ই-টিডিএসে কর পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার উৎসে কর জমা দিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাতা হিসেবে সামিট করপোরেশন জমা দিয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা । তৃতীয় অবস্থানে এসএস পাওয়ার জমা দিয়েছে সাড়ে ৩২ কোটি টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে এই সেবার পরিধি আরো বাড়াতে প্রতিবছর বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমাদানকারী দেশের ২৮ হাজার কোম্পানির লাখ লাখ করযোগ্য কর্মীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে উৎসে কর কেটে নিতে এসব কোম্পানিকে বাধ্যতামূলক ই-টিডিএস ব্যবস্থায় আনার চিন্তাভাবনা করছে রাজস্ব বোর্ড।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়কর বিভাগ প্রতিবছর যে পরিমাণ কর আদায় করে, তার মধ্যে ৬২–৬৫ শতাংশই উৎসে কর থেকে আসে। গত ২০২০–২১ অর্থবছরে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা উৎসে কর আদায় হয়েছে। তবে সার্বিক উৎসে করে বেতন খাতের অংশ মাত্র ৫-৬ শতাংশ বা ২-৩ হাজার কোটি টাকা। এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করতে রিটার্ন দেয় এমন সব কোম্পানিকে ই-টিডিএসে আনার চিন্তা ভাবনা চলছে।
এতে প্রতিবছর ১০-১২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয়কর আসবে বলে মনে করে সংস্থাটি।
জানাগেছে, পুরো ই-টিডিএস সফটওয়্যারটি চালু করতে কর অঞ্চল-৬ এর পক্ষ থেকে মাত্র লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এ জন্য এনবিআরকে আলাদা কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি। প্রতিটি কর অঞ্চলের ২-৩ জন করে সব মিলিয়ে এনবিআরের শতাধিক কর্মকর্তা এখন ই-টিডিএস পরিচালনা করছেন।
এনবিআরের ওয়েবসাইটে ঢুকে নির্ধারিত কিছু তথ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইটিডিএস নিবন্ধন নেওয়া যায়। নিবন্ধন নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যালয়ে বসেই এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও উৎসে কর এনবিআরে জমা দিতে পারেন।
বর্তমানে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কেটে রেখে পরে তা এনবিআরে জমা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে দুবার উৎসে কর আদায়সংক্রান্ত প্রতিবেদন আয়কর অফিসে জমা দিতে হয়। কিন্তু দেশের বহু প্রতিষ্ঠানই উৎসে কর আদায় করেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না বলে অভিযোগ আছে। অবশ্য প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণেও অনেক প্রতিষ্ঠান উৎসে করের টাকা জমা দিতে চায় না।