ফেসবুকে লাল নিশানায় ‘উই আর নাহিদ’ হ্যাশট্যাগ

১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১০:৩৫  

লাল ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর #WeAreNahid #WeAreWithNahid লিখে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়কের’ হ্যাশট্যাগে ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম ফেসবুক। ‘উই আর নাহিদ’ ও ‘উই আর উইথ নাহিদ’ লিখে তথ্য-সম্প্রচার, ডাক-টেলিকম ও আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দল ও মতের নেটিজেন।

এরইমধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ছাড়াও ব্যক্তিগত প্রোফাইলে আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ, আগের কমিটির সমন্বয়ক সারজিস আলম, আবদুল কাদের, মো. আবু বাকের মজুমদারসহ অনেকে ‘উই আর নাহিদ’ ও ‘উই আর উইথ নাহিদ’ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে #WeAreNahid হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘এই যে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারছো, কমপ্লেইন করতে পারছো, নিজের প্রফাইল থেকে সব শেয়ার করতে পারছো! কোয়েশ্চেন করতে পারছো। এটা ভুলে যাইও না। লাইফে কোনো দিন পারো নাই। এই ফার্স্ট পারছো। ভুলে যেও না।

কমপ্লেইন করো। অবশ্যই করবা। কেনো করবা না। কিন্তু তুমি এই রেভ্যুলুশনকে কোনোদিন ইগনর করতে পারবা না। অস্বীকার করতে পারবা না। ইন অল অনেস্টি, আমি নাহিদকে চিনিও না, জানিও না। বাট আমি খুব ভালো করে জানি আমি অর আমরা কয়েকশ মানুষ আজকে এখনো বেঁচে আছি ওদের মতো মানুষের স্যাক্রিফাইসের জন্য। তাদের ছাড়া আমাদের অর্ধেকই এখন ভ্যানিস হয়ে যাবে। এইটাও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’

নেটিজেনরা বলছেন, নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত এ কারণেই ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমে এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন তার অনুসারী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। এদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম #WeareNahid হ্যাশট্যাগ লিখে তার ফেসবুকে লিখেছেন,

এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ফেসবুকে #WeAreNahid_Asif হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছেন,

একইভাবে সমাজচিন্তার সম্পাদক আকরাম হোসাইন রাজ তার ফেসবুকে ‘উই আর নাহিদ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছেন, “সরাসরি সম্মুখে উচ্চস্বরে ‘সব শালারা বাটপার’ বলার স্বাধীনতা আনার জন্যই নাহিদরা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের নাহিদ ইসলাম ভাই।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আশরেফা খাতুন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘শোনেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন আর্মি হবে ঠিকাদার স্লোগান দিয়েছে, সেই স্লোগানের মানে আর্মিকে রাষ্ট্রের ঠিকাদারি দেওয়া না। ওদের নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে ওদের প্রশাসন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহু টালবাহানা করছে, সেজন্য ওরা চায় এই ঠিকাদারি আর্মিকে দেওয়া হোক। অথচ সেই স্লোগান নিয়ে লীগের বটগুলো গুজব ছড়াচ্ছে। অবশ্য লীগের এই স্বভাব বহু পুরোনো।’

আরেকটি পোস্টে আশরেফা খাতুন লিখেন, ‘বড় ভাই নাহিদ ইসলামকে ভরসা করি। ভাইয়ের ভুলত্রুটির সমালোচনা আমরাই করবো, কিন্তু ষড়যন্ত্র করতে দেব না কাউকে। আমি যদি এই আন্দোলনে কাউকে সামনে থেকে দেখে সাহস পেয়ে থাকি সেটা নাহিদ ভাই। পূর্ণ আস্থা রাখছি ওনার উপর।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী তরুণ লেখক রায়হান আহমেদ #WeAreNahid হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নাহিদ ইসলাম আমাদের ইমাম। আমাদের ভাই। ভুল হলে ইমামকে আমরা লোকমা দেবো। লোকমা দেয়া আমাদের অধিকার। কিন্তু নাহিদ ভাইকে আমরা একশ্রেণীর উগ্র নাগরিকের রোষানলে পড়তে দেবো না! এটা আমাদের ওয়াদা।’

অপরদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের দুইটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবি দুটি আন্দোলন চলার সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নাহিদকে তুলে নেওয়ার পর নির্যাতনের৷ ছবিতে দেখা যায় আঘাতের কারণে নাহিদ ইসলামের উরু এবং হাত কালচে আকার ধারণ করেছে। ছবির ক্যাপশনে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের অবস্থা এমনই। যারা হাসিনা পুনর্বাসন প্রকল্পকে সমর্থন করে তারা দেশকে সেই একই পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনবে; রক্তপাত, জোরপূর্বক গুম, হত্যা এবং আরও অনেক কিছু। হাসিনা শাসনের পুনর্বাসনকে সমর্থন করলে শেষ পর্যন্ত একই বিধ্বংসী পরিণতি ঘটবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশই নাহিদ।
আমরা নাহিদ।
জুলাই ১৩৬, ২০২৪।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আগের কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম তার ফেসবুকে লিখেছেন, 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) মহাপরিচালক পদের নিয়োগপত্রে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সুপারিশসহ সই করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নাহিদ ইসলাম এ বিষয়টিকে অসত্য এবং বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘১৫ই অক্টোবরের নিয়োগ ২২শে অক্টোবরই বাতিল করা হয়েছিল। সুপারিশকৃত গোপন নথির ছবি যারা পেয়ে যায় তাদের কাছে বাতিলকৃত প্রকাশ্য নোটিশটি অজানা থাকার কথা না। তারপরও যেকোনো মূল্যে অসত্য প্রচার করে বিতর্কিত করাটা এই সময়ের রাজনীতি।’

‘মূলত আওয়ামী বিরোধী ও আন্দোলনের পক্ষের একটি গ্রুপ এই ব্যক্তির সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা উনার একাডেমিক এক্সেলেন্সি দেখে এনআইবি পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড জানার পরে সাথে সাথেই উনার নিয়োগ বাতিল করা হয়।

গত মাসের ঘটনা। বাতিল করার ঘোষণাটিও সকলে অবগত আছে।’ বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা জুলাইয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলাম। নাহিদ ইসলাম, Asif Mahmud যেহেতু ফ্রন্টলাইনে ছিলো ফ্যাসিস্টের প্রথম টার্গেটও তারাই এবং এখনো আছে। তাদের নিবেদিত লড়াই— নিশ্চিত কাঠগড়া কিংবা মৃত্যু জেনেও আপোষহীন রাজপথ আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত করেছে। নাহিদ শুধু রাজপথের সহযোদ্ধাই নয়, বন্ধুও বটে। ক্যাম্পাসে আমরা দীর্ঘ সময় যাবৎ পাশাপাশি থেকে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করে আসছি।

হ্যাঁ, মানুষ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ছাত্র নেতৃত্ব এমন কোনো সিদ্ধন্ত নেয়নি যেটার জন্য হেনস্তার শিকার হতে হবে। আমরা চাই— রাষ্ট্রের ইতিবাচক সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক মীমাংসা। ছাত্র নেতৃত্ব আস্থা হারানোর মতো কোনো সিদ্ধান্তও নেয়নি। মনঃপূত সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা গঠনমূলক সংশোধনী দিব আর তারা গ্রহণ করার মানসিকতাও দেখায়, দেখাচ্ছে, দেখাবে।’

যারা দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে চায় তাদের সতর্ক করে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘রাজপথে নামার অভ্যাস ও মানসিকতা হারাইনি। আমরা জানি কীভাবে বিপ্লব করতে হয়, বিপ্লবকে ধারণ করে সামনে এগুতে হয়। চিন্তাগত পার্থক্য থাকলেও জুলাইয়ের প্রশ্নে আমরা এক কাফেলাতেই আছি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, আজাদী জিন্দাবাদ।’