ফাইভজি চালুতে অবকাঠামো, পলিসি ও স্পেকট্রামের দিকে তাকিয়ে টেলকো অপারেটররা

২৪ আগষ্ট, ২০২১ ১৮:৪৬  
অঞ্জন চন্দ্র দেব (স্টাফ রিপোর্টার):  ২০১৮ সালে ফোরজির স্বাদ পাওয়া শুরু করে বাংলাদেশের জনগণ। চতুর্থ প্রজন্মের এই সেবা চালুর পর থেকেই আলোচনায় পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেট ফাইভজি। ডিজিবাংলার অনুসন্ধান বলছে, ফাইভজি সেবা চালু করতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। সরকার প্রস্তুত থাকলেও তিন বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠান ভাবছে দেশের প্রযুক্তিবিষয়ক অবকাঠামো, সংশ্লিষ্ট পলিসি ও স্পেকট্রাম নিয়ে। বাংলালিংক জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফাইভজির মতো পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পিছ পা হবে না। তবে বাধ সেধেছে মোবাইল অপারেটর সংশ্লিষ্ট সরকারের পলিসি। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, ফাইভজি চালু করলেই তো হবে না, ফাইভজি ফোন এখনো আমাদের রেডি নাই। অবশ্যই আমরা নতুন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করবো এবং আমরা সব সময় চেস্টা করবো গ্রাহকের কাছে সেরা সার্ভিস দিতে। গ্রাহক যদি মনে করে ফাইভজিতে তারা ভালো সার্ভিস পাবে অবশ্যই আমরা চালু করবো ।ফাইভজি চালু হলেও ইনভেস্টমেন্টের জন্য সরকারের পলিসি খুবই কঠিন, পলিসিতে পরিবর্তন না হলে ইনভেস্টমেন্ট পেতে খুবই সমস্যা । সরকারের পলিসি খুবই কঠিন ইনভেস্টমেন্টের জন্য কারণ ইনভেস্টমেন্টে কিন্ত আমাদের শেয়ার হোল্ডারাই করবে। শেয়ার হোল্ডাররা যদি দেখে সরকার ট্যাক্স বা কিছু কমাচ্ছে না তাহলে তো আমাদের ইনভেস্টমেন্টটা নিয়ে আসতে খুব সমস্যা হবে। ফাইভজি চালুর বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি প্রস্তুত রবি। প্রতিষ্ঠানটি ভাবছে, ফাইভজি হ্যান্ডসেট এবং স্পেক্টট্রাম নিয়ে। রবি'র হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ফাইভজিতে আমরা রেডি আমরা ছাড়াও কিন্ত ইকোসিস্টেম আছে। সমস্যা আমাদের ইকোসিস্টেম কিন্ত রেডি না। আমাদের ফাইভজি মোবাইল নাই, স্পেকট্রাম নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফাইভজির প্রথম পর্বফাইভজিতে প্রস্তুত সরকার, যেকোনো দিন চালু হবে ঢাকায় দীর্ঘ মেয়াদী অবকাঠামো তৈরি করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভালো করা সম্ভব বলে মত দেন রবির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম। আমাদের ন্যাশনাল রেটই অব রিটান যদি থাকে এবং সেটা কিন্ত ইন্ড্রাস্টির সকালের শুধুমাত্র ১ টা অপারেটরের না। একজনের ভালো আরেক জনের খারাপ এইটা কিন্ত ইন্ড্রাস্টি ইস্যু। তাই রেটই অব রিটান যদি ভালো থাকে আমরা অনেক বেশি ইনভেস্ট নিয়ে আসতে পারবো এবং ইনফাস্ট্রাচার অনেক বেশি ভালো হবে। দীর্ঘ মেয়াদি ইনফাস্ট্রাচার করে ডিজিটাল ইকোনমিতে ভালো করতে পারবো। অপারেটররা বলছেন, যারা ফাইভজিতে বিনিয়োগ করবে, তারা দেখবে রির্টান কেমন আসবে। তাই ফাইভজিতে গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাত্মতা চায় গ্রামীণফোন। আমাদের সবাইকে একসাথেই নিয়েই আগাতে হবে, আমরা কাস্টমার, ইনভেস্টর, রেগুলেটরি সবাই মিলে। আমরা একদিকে যেমন জনগোষ্ঠীকে অনলাইনে নিয়ে আসতেছি। একই সাথে আমাদের যারা ইনভেস্টর ওরা কিন্ত দেখবে ওদের দিকটা যে তারা কত ইনভেস্ট করছে এবং তা থেকে কত লাভ হচ্ছে। ৩জি ও ফোরজি আমরা গ্রহণ করেছি তাই সব কিছু প্রস্তুতি নিয়ে যখন ফাইভজিতে আসবেন তখনি বুঝা যাবে ইনভেস্ট ঠিক আছে কিনা বললেন গ্রামীণফোনের ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত। সব মিলিয়ে বেসরকারি অপারেটরদের মধ্যে ৫জি’র আগ্রহ নির্ভর করছে ব্যবসায় সুযোগের ওপর। তারা চাইছেন, নতুন করে বিনিয়োগ করার আগে লাভ-ক্ষতির বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে।