প্রতিবার চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে আধা লিটার পানির অপচয়!
চ্যাটজিপিটি এবং জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ব্যবহার পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এআই বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কেট ক্রফোর্ড। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবার চ্যাটজিপিটির মতো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রায় অর্ধ লিটার পানি অপচয় হচ্ছে। এআই প্রযুক্তি কেবল শক্তি খরচ বাড়াচ্ছে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে।
এআইয়ের শক্তি খরচ বৃদ্ধির চিত্র
কেট ক্রফোর্ড বলেছেন, “জেনারেটিভ এআই এমন একটি প্রযুক্তি, যার শক্তি খরচ এখন একটি ছোট দেশের সমান। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি জাপানের মতো শক্তি চাহিদা তৈরি করতে পারে।” সাধারণ ওয়েব সার্চের তুলনায় জেনারেটিভ এআই দশগুণ বেশি শক্তি ব্যবহার করে, যা সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তি খাতের শক্তি চাহিদা তিনগুণ বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক সময়ে আছি যেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামানোর জন্য আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি তা না পারি, তাহলে পুরো পৃথিবী মারাত্মক পরিবেশগত সংকটে পড়বে।”
পানির অপচয়ের ভয়াবহতা
এআই প্রযুক্তির বিপুল শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি এটি ডেটা সেন্টারগুলোতে পানির ব্যাপক অপচয় ঘটাচ্ছে। ক্রফোর্ড বলেছেন, “এই সিস্টেমগুলো শীতল রাখতে প্রচুর পরিমাণ তাজা পানি ব্যবহার করা হয়, যা বাষ্প হয়ে হারিয়ে যায়। প্রতিটি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় অর্ধ লিটার পানি এমনভাবে অপচয় হয় যেন তা মাটিতে ঢেলে দেওয়া হয়েছে।”
প্রযু্ক্তি জায়ান্টদের দায়িত্ব
ক্রফোর্ড মনে করেন, এআই প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি জায়ান্টদের টেকসই উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের এখন এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে হবে যেখানে এআই পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবে, বরং সংকট সৃষ্টি করবে না।”
ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্বীকার করেছেন, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তির জন্য শক্তি ব্যবহারে একটি বড় উদ্ভাবন প্রয়োজন। অল্টম্যান নিউক্লিয়ার ফিউশন কোম্পানি হেলিওন এনার্জিতে বিনিয়োগ করেছেন, যা মাইক্রোসফটের জন্য নিউক্লিয়ার এনার্জি সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ।
অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা
অস্ট্রেলিয়া, ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সংগ্রাম করছে। ক্রফোর্ড মনে করেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনায় অস্ট্রেলিয়ার নীতি বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সেনেট কমিটির একটি প্রতিবেদনে প্রযুক্তি জায়ান্টদের স্বচ্ছতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
কেট ক্রফোর্ড ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি জলবায়ু সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনই টেক জায়ান্টদের শক্তি ও পানির ব্যবহার কমিয়ে আরও টেকসই এআই মডেল তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
ডিবিটেক/বিএমটি







