প্রতি কর্মদিবসে গড়ে ৮ হাজার ই-রিটার্ন জমা পড়ছে
গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন রিটার্ন দাখিল সিস্টেমটি করদাতাদের জন্য উন্মুক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সিস্টেমটি ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার অতিক্রম করেছে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) এনবিআরের পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ. মু'মেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন জমার সিস্টেম চালুর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে এখন গড়ে আট হাজার ই-রিটার্ন জমা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস এলাকায় যাত্রীদের সুবিধার্থে হেল্প ডেস্ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, আগামীতে দেশের কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ই-রিটার্নকে আরও কার্যকর এবং সবাইকে ই-রিটার্ন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। এতে আগামী বছর থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আরও সহজ হবে।
এনবিআর সূত্রে প্রকাশ, ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিল ও কর পরিপালন সহজ করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন রিটার্ন দাখিল সিস্টেম করদাতাদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সহজে নিজের রিটার্ন তৈরি করে অনলাইনে দাখিল করতে পারছেন। সিস্টেমটি ব্যবহার করে গত ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার অতিক্রম করেছে। আর বর্তমানে ১ কোটি ৫ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছে। প্রতিবছর গড়ে ৪০ লাখের মতো টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেন।
এদিকে যে সকল করদাতা ইতোমধ্যে সফলভাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছে এনবিআর। এছাড়া অন্যান্য ব্যক্তি করদাতাদের যথাসময়ে পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করেছে সংগঠনটি।
এনবিআর আরও জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে অবস্থিত আয়কর সার্কেলগুলোর অধিক্ষেত্রভূক্ত সকল সরকারি কর্মচারী, সকল তফশিলি ব্যাংক, সকল মোবাইল টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ই-রিটার্ন সিস্টেম আপগ্রেডেশন ব্যবহার করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা নিজে রিটার্ন তৈরি, অনলাইনে রিটার্ন দাখিল অথবা অফলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রিন্ট গ্রহণ, অনলাইন ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ড বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (নগদ, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি) মাধ্যমে কর পরিশোধ, রিটার্ন দাখিলের তাৎক্ষণিক প্রমাণ প্রাপ্তি, আয়কর পরিশোধ সনদ ও টিআইএন সনদপ্রাপ্ত, পূর্ববর্তী কর বছরের দাখিল করা ই-রিটার্নের কপি, রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রিন্ট বা ডাউনলোডের সুবিধা পাবেন।
ইতোমধ্যেই ই-রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি অধিকতর করদাতা বান্ধব করা হয়েছে উল্লেখ করে এনবিআর জানায়, এ সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে টিআইএন ও করদাতার নিজ নামে বায়োমেট্রিক ভেরিফায়েড মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। করদাতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিক রেজিস্টার্ড কি না তা যাচাই করতে *16001# নম্বরে ডায়াল করতে হবে। যাদের বায়োমেট্রিক রেজিস্টার্ড নেই তারা নতুন সিম সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবেন।
সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগে কর্মরত কর্মচারীদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে ২ জন করে আইটি দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমকে আরও করদাতাবান্ধব করতে ইতোমধ্যেই রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির আপগ্রেডশনসহ www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত আয়কর সার্কেলগুলোর অধিক্ষেত্রভূক্ত সকল সরকারি কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের বাধ্যবাধকতার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িত SPFMS কর্মসূচির আওতাধীন BACS and iBAS++ স্কিম থেকে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ই-রিটার্নের সঙ্গে সম্পর্কিত এ-চালান বিষয়ক প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা প্রদানের জন্য একটি এ-চালান হেল্প ডেস্ক গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর ওয়েবসাইট www.nbr.gov.bd এবং www.etaxnbr.gov.bd এর স্ক্রলে ক্লিক করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফর্ম অনলাইনে পূরণ করে রেজিস্ট্রেশনপূর্বক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রশিক্ষণের তারিখ ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে।







