পাটের ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

১ জুন, ২০২১ ১৩:২১  
তথ্যপ্রযুক্তির ভরামৌসুমে ফিরতে শুরু করেছে দেশের সোনালী আঁশ পাটের স্বর্ণালী যুগ। প্রয়াত বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের পাট গাছের জিন রহস্য উন্মোচনের পর পাট থেকে পলিথিন আর ঢেউটিন তৈরির রাস্তা দেখিয়েছেন বিজ্ঞানী মোবারক আহমেদ খান। এবার সেই পাট থেকেই জীবন বাঁচানো অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির পথ উদ্ভাবন করলেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। পাটের বিভিন্ন অংশে এন্ডোফাইড খাঁজে খাঁজে ৫০টিরও বেশি অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বাস করে। তবে এই অ্যান্টিব্যক্টেরিয়াল জিনযুক্ত অণুজীবের খোঁজ পেয়েছেন পাটের বীজ থেকে। ‘স্টেফাইলো কক্কাস হোমিনিস’ নামের এই ব্যাকটেরিয়া নিজের শরীর থেকে এমন কিছু তৈরি করে, যাতে আবার অন্য ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। আর তাতেই বেরিয়ে আসে নতুন এই অ্যান্টিবায়োটিকের খোঁজ। যা বাঁচিয়ে দিতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিট্যান্স (যাদের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করছে না) হওয়া অনেক রোগীর প্রাণ। ব্যাকটেরিয়া ও পাটের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে মিল রেখে নতুন এ অ্যান্টিবায়োটিকের নাম দেয়া হয়েছে ‘হোমিকরসিন’। বেশ কিছু শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি ভালো কাজ করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম এবং জীন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক পাট থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির এই গবেষণায় অংশ নেন। বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা দল কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (বিসিএসআইআর) সদস্যও রয়েছেন।  এরা হলেন- শাম্মী আক্তার, মাহবুবা ফেরদৌস, বদরুল হায়দার, আল আমিন ও এএইচএম শফিউল ইসলাম মোল্লা। কীভাবে খোঁজ পেলেন এই অ্যান্টিবায়েটিক ব্যাকটেরিয়াটির এমন প্রশ্নের জবাবে জীন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন জানালেন, ল্যাব পরীক্ষায় পাটের ডিএনএ-তে ছাত্ররা যখন বারবারই কন্টামিশনের মুখোমুখি হয় তখন এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়েই পাটের বীজ জার্মিনেসনের সময় এই অ্যান্টিবায়েটিক ব্যাক্টেরিয়াটির খোঁজ করেন তারা। সমস্যার কিনারা পেতে বিনিদ্র রজনী গবেষণায়রত এই গবেষক জানালেন, উদ্ভাবনটি ভবিষ্যতের ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ কাজের একটি ঔষধ তৈরির পথকে উন্মুক্ত করলো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন  প্রোটিন কেমেস্ট্রি-তে দক্ষতার ক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন সফল বিজ্ঞানীর সমকাতারে থাকা এই গবেষক। গবেষণার সফলতায় দেখা গেছে,  নতুন উদ্ভাবিত অ্যান্টিবায়োটিকের রয়েছে ৫টি ভ্যারিয়েন্ট। তার মধ্যে দুটি নিয়ে কাজ শেষ করেছেন তারা। বাকি ৩টি নিয়ে আরও কাজ চলছে। তবে প্রায়োগিক পর্যায়ে এই সুবিধা আনতে এখন ক্লিনিক্যাল ট্র্যায়েলে যেতে ফান্ডিং প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন গবেষণা দলের অপর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম। এদিকে গত ২৭ মে ন্যাচার পাবলিশিং গ্রুপের ‘সাইন্টিফিক রিপোর্ট’ জার্নালে যুগান্তকারি গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পাটের বীজ থেকে উদ্ভাবিত ব্যাক্টেরিয়াটি কার্যকর অ্যান্টিবায়েটিকটিক হিসেবে বিশ্বে নতুন আশা দেখাচ্ছে বিশ্ববাসীকে।