নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে দেশের সেরা যারা

৫ অক্টোবর, ২০২৪ ২৩:০৭  

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হলো বাংলাদেশের ৯ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন দল। ঢাকা থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম কেয়ান্টাম ভয়েজার্স। এছাড়াও ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সিলেট থেকে টিম ‘অর্ক’; রংপুর থেকে টিম ইনোভেটর্স বিডি, ময়মনসিংহ থেকে ইকো রেঞ্জার্স, কুমিল্লা থেকে টি মাইনাস জিরো; চট্টগ্রাম থেকে ‘আর্বান ইউটোপিয়ান্স’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর ঢাকার এআইইইউবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ৩৬ ঘণ্টার এই হ্যাকাথনে অংশ নিয়ে রাজশাহী থেকে টিম এনভো_ফাইটার্স; বরিশাল থেকে টিম ফনিক্স ও খুলনা বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে ‘টিম অ্যাটলাস’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে অংশ নেবে এই দলগুলো।

শনিবার রাতে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশ পর্বে বিজয়ী দলের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ মিলিয়ে মোট ২৭ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। একইসঙ্গে স্কুল শিক্ষার্থীদের দল ‘সোলার শ্যাডো’ পেয়েছে বিশেষ সম্মাননা।  সৌরজগতে গ্রহ-উপগ্রহ সম্পর্কে খেলতে খেলতে শেখার গেইম বানিয়ে এই সম্মাননা জিতেছে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুবহা সাফায়াত সিজদার নেতৃত্বধীন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সেজদা জাকির তারল্য, মিরহা সিনায়াত, আমিনুর রহমান সাজিম ও গোলাম তাহরীম বিন আরিক।

বিশ্বের ১৮৫টি দেশের লক্ষাধিক প্রবেলম সলভারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছে বাংলাদেশে বিভিন্ন বিভাগ থেকে গঠিত স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৫০০টি দলে তিন হাজার শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ঢাকা থেকে ১ম রানার আপ টিম টাইটান। আর ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে ২য় রানার আপ টিম হাইড্রো (ভার্চুয়াল)।  

একইভাবে বরিশাল থেকে ১ম রানার আপ অ্যাকোয়া-অ্যাগ্রোপ্রেডিক্টা, ২য় রানার আপ টিম ইয়টাবাইট; চট্টগ্রাম থেকে ১ম রানার আপ টিম ব্লুসেন্ট্রি, ২য় রানার আপ টিম রিকারশন; কুমিল্লা থেকে ১ম রানার আপ হেলিও আলকেমিস্ট (ভার্চুয়াল), ২য় রানার আপ এক্সোভার্স (ভার্চুয়াল), খুলনা থেকে ১ম রানার আপ   টিম নভাফ্লেয়ার, ২য় রানার আপ গ্লোবাল প্রোটেক্টর; ময়মনসিংহ থেকে ১ম রানার আপ মনসুনফাইভ, ২য় রানার আপ লুনার_হার্ভেস্টার্স (ভার্চুয়াল); রংপুর থেকে ১ম রানার আপ টিম নভোচারী, ২য় রানার আপ এগ্রি ভিশন; রাজশাহী থেকে ১ম রানার আপ কোডব্ল্যাক (ভার্চুয়াল), ২য় রানার আপ দ্য অর্বভেঞ্জার্স (ভার্চুয়াল), এবং সিলেট থেকে ১ম রানার আপ টিম নভো, ২য় রানার আপ সাস্ট ব্রেইনস্টর্মারস হয়েছে।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এবার তিনটি রাউন্ডেই স্বর্ণ পদক জিততে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পর্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান। তিনি বলেন, মহাকাশের দূর দুরান্তের মহাকাশ তথা এক্সোপ্লানেট নিয়ে গেইম বানিয়ে সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। একইভাবে জলবায়ুর ধকল কাটাতে বাংলাদেশের মানুষের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কিছু কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।

অপরদিকে এবার বাংলাদেশে থেকে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের গ্লোবাল জাজ আরিফুল হাসান অপু বলেছেন, আমাদের সন্তানদের মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। তাদের চিন্তাশক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং উপস্থাপনা আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তারা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছে যে বাংলাদেশেও বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। আমাদের সন্তানদের অনুপ্রেরণা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে, তারা বিশ্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারবে।

রাতে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ এবং বেসিস সভাতি রাসেল টি আহমেদ। এআইইউবি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন নাদিয়া আনোয়ার, উপাচার্য ড. সাইফুল ইসলাম; জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, সহ-সভাপতি (অর্থ) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, বেসিসের পরিচালক মীর শাহরুখ ইসলাম ও বিপ্লব ঘোষ রাহুল, এবং নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৪ এর আহ্বায়ক অভিজিৎ ভৌমিক, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশ পর্বের উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান।  আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা জেমস গার্ডিনার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ বলেন, “নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে আপনাদের এই বিস্ময়কর সাফল্যের জন্য আমি আপনাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৪ হলো একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম যা শুধুমাত্র উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে না বরং আমাদের তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শেখার আগ্রহ জাগায়। এটা অসাধারণ যে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ টানা তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়নি। আপনাদের নিজেদেরকে নিয়ে আপনাদের গর্ব করা উচিৎ। আমি পরের বছর আবারো আপনাদের মধ্য থেকে পঞ্চম বারের মতো বিজয়ী দল দেখতে চাই। ”

এআইইউবি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন নাদিয়া আনোয়ার বলেন, “এই ইভেন্টটি শুধুমাত্র আমাদের দেশের তরুণদের জন্যই নয় বরং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ উৎকর্ষ সাধনের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সর্বদা মানুষের অগ্রগতির অগ্রভাগে রয়েছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, শিল্প এবং সমাজকে নতুন আকার দিচ্ছে। এটি সর্বোপরি আমাদের তরুণদের আগামী দিনের বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদ হওয়ার জন্য উত্সাহিত করবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিযোগীদের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মুগ্ধ’র স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং শহীদ তানভীনের ড্রোন যেনো লাল-সবুজের পতাকাকে সমুন্বত করে বিশ্বময় তুলে ধরতে পারে সেই শপথ পাঠ করান বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। বিজয়ীদের নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বেসিস টানা ১১তম বারের মতো এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে, এই ধারাবাহিকতা আমাদের তরুণদেরকে উজ্জীবিত করবে এবং পঞ্চমবার বিশ্বজয় করবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।”

https://digibanglatech.news/news24x7/event/141972/?swcfpc=1