নতুন বছরেই বাধ্যতামূলক হচ্ছে ই-পেমেন্ট
গত জুলাই থেকে দুই লাখ টাকার বেশি পরিমাণ শুল্ককর ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করার কাজ শুরু করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এবার নতুন বছরের প্রথমদিন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের সব ধরনের শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হবে বাধ্যতামূলক ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে।
প্রায় তিন বছর ধরে ই-পেমেন্ট পদ্ধতি সবার কাছে সহজবোধ্য করার পর তা বাধ্যতামূলক করলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
কাস্টমস সূত্রে প্রকাশ, সর্বপ্রথম চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কমলাপুর আইসিডিতে সব ধরনের বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে শুল্ক-কর ই-পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ কার্যকর করা হয়। সেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই থেকে দেশের সব শুল্ক হাউস ও শুল্ক স্টেশনে ২ লাখ টাকার বেশি শুল্ক-কর হলে ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করার বিধানটিও কার্যকর করা হয়। এখন ২০২২ সালের প্রথম দিন থেকে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে শুল্ক-কর পরিশোধে আর সীমা রাখা হচ্ছে না। এ কারণে নতুন বছর থেকে আমদানি পর্যায়ের সব ধরনের শুল্ক-কর পরিশোধে ই- পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হলো।
এর আগে ২০১৭ সালে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করার আদেশ দিয়েছিলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআরের পক্ষে থেকে বলা হয়েছে, ই-পেমেন্ট ব্যবস্থায় আমদানিকারক কিংবা সিএন্ডএফ এজেন্টের ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি ট্রেজারিতে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে। ফলে আমদানিকারক বা সিএন্ডএফ এজেন্ট নির্বিঘ্নে দ্রুত শুল্ককর পরিশোধ করতে পারবেন। এতে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ককর পরিশোধে জালিয়াতির ঝুঁকি কমে যাবে।
প্রসঙ্গত, ই-পেমেন্ট সিস্টেমে আমদানিকারক দেশের যে কোনো ব্যাংক থেকে শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। তফসিলি ব্যাংকের যে শাখা থেকে শুল্ক পরিশোধ করা হবে সেই ব্যাংকের সাথে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ শাখার মধ্যে গেইটওয়ে হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস সিস্টেম। ই-পেমেন্টের একমাত্র গেইটওয়ে সোনালী ব্যাংক। এসাইকুডা সফটওয়্যারের মাধ্যমে (শুল্ক সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার) আমদানিকারকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করতে সময় লাগবে দুই মিনিট।
ই-পেমেন্ট করতে ছয় ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অর্থবছর, কাস্টম হাউজের অফিস কোড, পরিশোধকৃত শুল্কের পরিমাণ, এআইএন নম্বর এবং ফোন নম্বর। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুল্ক পরিশোধ করা হলে আমদানিকারকের ফোন নম্বরে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত কনফার্মেশন এসএমএস পৌছে যাবে। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্কে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট হবে।