নগদে নতুন ব্যবস্থাপনা বোর্ড, চেয়ারম্যান কে এ এস মুরশিদ

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:০৯  

সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হুমকি ও জিডি’র পর ‘প্রশাসক প্যানেল’র সঙ্গে নতুন করে ‘ব্যবস্থাপনা বোর্ড’ বসানো হলো মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ। প্রতিষ্ঠানটির ‘ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে’ একটি ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করে দেওয়া দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদকে।

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো খন্দকার সাখাওয়াত আলী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. ফরিদ আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত চিঠি ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসক ও তার সহায়ক দলকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’–এর ১৮(৪) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে ম্যানেজমেন্ট বোর্ড গঠন করা হলো।

https://digibanglatech.news/life-style/fin-tech/138448/?swcfpc=1

এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২১ আগস্ট নগদ পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় ছয়জন কর্মকর্তাকে ‘সহায়ক কর্মকর্তা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা নগদের কার্যালয়ে যেয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার বর্তমানে নগদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু করে নগদ। তবে শুরু থেকেই এই আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নটি ছিলো নগদ কি ডাক বিভাগের সেবা না কি বেসরকারি সেবা। কেননা, এর লোগোতে একসময় ডাকের চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিলো। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ডাক বিভাগের সেবা বলা হতো। কিন্তু বাস্তবে এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানটির কোনো মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও সরকার সব সরকারি ভাতা পেতে ভাতাভোগীদের এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে নগদের গ্রাহক হতে হয়।