টিকটক বন্ধ নয়, টিকটকেই আছে এর সমাধান
সময় বদলেছে। বদলেছে বিনোদনের ধরন। গোল্লাছুট, কানামাছি একসময়ের জনপ্রিয় খেলাগুলোর দেখা মেলে বইয়ের পাতায়। এখন যান্ত্রিক সময়ে জীবন আটকে আছে যন্ত্রের মধ্যে। তাই বর্তমান সময়ের বিনোদনটিও যন্ত্র কেন্দ্রিক। ঘরে বসে কম্পিউটারে গেমস খেলে বা মোবাইলে মজাদার ভিডিও দেখাই বর্তমান প্রজন্মের বিনোদনের খোড়াক।
যান্ত্রিক এই বিনোদনের একটি টিকটক, লাইকির মতো প্লাটফর্মগুলো। এবার এই যান্ত্রিক বিনোদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অপরাধের পথ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ল্যান্ডপার্কে টিকটক হ্যাংআউট প্রোগ্রাম আয়োজন করে একটি গ্রুপ। হৃদয় নামে কথিত এক টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফাঁদে পরে ভারতে পাচার হয় কয়েকজন তরুণী। বিষয়টি দেশের গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
নড়েচরে বসে প্রশাসন। শনিবার (৫ জুন) রাজধানীতে ‘কিশোর অপরাধ বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ নিয়ে বিতর্ক প্রযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিকটকসহ বিতর্কিত অ্যাপগুলো নিষিদ্ধের দাবি তোলেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
৬ জুন যুব সমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষায় স্মার্টফোন অ্যাপ বিগো লাইভ, টিকটক, লাইকি মোবাইল অ্যাপস নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) আসার বিষয়টিও প্রকাশ পায়।
তবে টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মতে টিকটক বন্ধ না করেই টিকটকেই রয়েছে সহজ সমাধান। তাদের মতে টিকটক একটি প্লাটফর্ম মাত্র। যেখানে একজন টিকটক ক্রিয়েটরের সঙ্গে আরেকজনের কার্যত যোগাযোগের সুযোগ নেই।
মোহাম্মদ রাকিব উদ্দিনের কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেন অপর টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রথী আহমেদ। তার মতে টিকটকের মতো অন্যান্য প্লাটফর্ম কেউ চায় না তাদেরকে প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হোক।
তিনি আরও জানান, টিকটককে ব্যবহার করে অনেকে নামীদামী ব্রান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া টিকটকের রয়েছে শক্তিশালী নীতিমালা।
এদিকে রাকিবের মতে উঠতি বয়স বা যারা ভাইরাল হওয়ার জন্য এইসব প্লাটফর্মে অশালীন ভিডিও তৈরি করেন তারাই দেখা যায় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। রথী আহমেদের মতে টিকটকে যারা অশালীন ভিডিও তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে এবং যারা এসব ভিডিও অন্য মাধ্যমে ভাইরাল করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এই সংকট থেকে সমাধান সম্ভব।
এই টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা আরও জানান, সচেতনতাই পারে এসব প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে ঘটা অপরাধ থেকে মুক্তি দিতে।







