জমি কেনার আগেই অনলাইনে মিলবে মালিকানা পরিবর্তনের ইতিহাস
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ভূমি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) ডিজিটাইজেশন দ্রুত শেষ করে, তা দেশব্যাপী ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নামজারির (মিউটেশন) সাথে আন্তঃসংযোগ করা গেলে মানুষের জন্য ভূমিসেবা গ্রহণ আরও মসৃণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। একইসঙ্গে আগামীতে জমি কেনার আগেই অনলাইনেই ক্রেতা তাৎক্ষণিকভাবে জমির মালিকানা পরিবর্তনের ইতিহাস জানতে পারবেন বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে ঢাকার এক হোটেলে ভূমি মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সমন্বিত ও ব্যাপক ভূমি প্রশাসন’ (Integrated and Comprehensive Land Administration in Bangladesh) শীর্ষক দু-দিন ব্যাপী এক কর্মশালায় এমনটাই জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী।
ভূমি সচিব মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমি একটি আবশ্যিক উপাদান। এছাড়াও, ভূমি কেন্দ্রিক সমস্যা কমে গেলে মানুষের মূল্যবান সময় এবং অর্থ বেঁচে যাবে - যা অধিকতর উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করা যাবে। ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি - দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতিতেই দক্ষ ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এজন্যই ভূমিসেবা ডিজিটাইজেশনকে এত গুরুত্ব দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে দেশব্যাপী শেষ হলে মাঠে গিয়ে জরিপের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। মানুষ যেন ভূমি অফিসে না গিয়েই জমির মালিকানা পরিবর্তনের সব আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন - সেই ব্যবস্থা স্থাপনে আমরা কাজ করছি। আর দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহি ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ভূমি সচিব বলেন, ইতোমধ্যে ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনে জুডিশিয়াল কোর্টে মামলা হয়েছে। আমরা এসব পর্যবেক্ষণ করছি। এছাড়া এই আইনের বিধি প্রণয়নের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পদের উপর নারীদের যথাযথ অধিকারের বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
কর্মশালায় প্রথমদিন বিশেষজ্ঞ আলোচকদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো: জাহিদ হোসেন পনির, বিশ্বব্যাংকের লিড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্পেশালিষ্ট মিকা-পেটেরি টরহোনেন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্পেশালিস্ট ডং কিউ কোয়াক প্রমুখ।
কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এসবের আওতাভুক্ত দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি কর্মকর্তা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা উন্নয়ন পরামর্শকবৃন্দ, মাঠ পর্যায়ে সরাসরি ভূমিসেবা প্রদানকারী ভূমি অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস এবং নিবন্ধন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভূমিসেবা ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমের ভেন্ডার প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাইজেশনের ফলে ইতোমধ্যে অনেক অগ্রগতি সাধন হয়েছে। ডিজিটাইজেশনের কারণে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা অনেকটাই সহজতর হয়েছে। তবে, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং নাগরিকের অনিস্পত্তিকৃত সমস্যা সমাধানে এখনো অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা সংশোধন, জমির মূল্য নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে এই কর্মশালায় উপস্থাপনা এবং আলোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ কর্মশালার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম হবার কথা রয়েছে।







