গুজব রোধে আইনের অধীনে আসবে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’
আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস ও মাইক্রোপসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রে ২০৪১ সালে নতুন কিছু উদ্ভাবনের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে প্রযুক্তি বিশ্বে নেতৃত্বে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আর এক্ষেত্রে শিশুদের কম্পিউটার জ্ঞানসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া এবং নীতি প্রণয়নের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
শনিবার রাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন দৃঢ়তার কথা ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র।
তিনি বলেছেন, গুজব একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সাধারণ মানুষকে গুজব বিষয়ে জানাতে ৩৩৩ নম্বর চালু করা হয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হচ্ছে। গুজব ঠেকাতে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকেও আইনের অধীনে আনার পরিকল্পনা চলছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার অনুযায়ী গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর রূপকল্প বাস্তবায়ন করে বর্তমানে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছে তারই সুফল মহামারীকালে পাচ্ছে দেশবাসী।
বিগত সময়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, আমরা ৪০ হাজারের উপর মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বানিয়েছি। আমরা আমাদের সরকারি কার্যক্রম যাতে অনলাইন সিস্টেমে চলে যায়, তার জন্য আমরা একটা ই-নথি সিস্টেম আবিষ্কার করেছি।আমরা ২০ হাজারের উপর সরকারি অফিসকে কানেকশন দিয়েছি। যখন এই মহামারী আরম্ভ হয়, দুই মাসের মধ্যে আমাদের দেশকে বন্ধ করে দিতে হয়। তবে আমাদের সরকারি কার্যক্রম কিন্তু থামে নাই। তখন আমরা সম্পূর্ণ ই-নথিতে চলে যাই। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে চলে যাই। এই যে ডিজিটাল সিস্টেম আমরা করেছি, তাতে আমাদের দেশ চলতে থাকে। কোনো বাধা পড়ে না। ই-জুডিশিয়ারি সিস্টেমের কার্যক্রমও অতি শিগগিরই সম্পন্ন করা হয়, যাতে আদালতের কার্যক্রমও থেমে যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ সে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখে বলেন, আমি যে দেশে আছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র… তারা এখন আবার লকডাউনে সব বন্ধ করে দিচ্ছে, কারণ কোভিড এখনও বাড়ছে এখানে। এ দেশে, বিশ্বের সব থেকে ধনী দেশে আড়াই লাখের উপর মানুষ প্রাণ হারিয়েছে কোভিডে, কল্পনা করা যায় না। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৬ হাজার। ৬ হাজার প্রাণ যে হারানো হয়েছে, এটাও দুঃখের বিষয়। আমরা তাও চাই না। তবে এই তুলনাটা করে দেখেন। যারা মনে করে, আমরা একটা দরিদ্র দেশ, আমরা কিন্তু দরিদ্র দেশ না। আমরা কী পর্যায়ে এগিয়ে আছি, এ রকম মহামারীর মধ্যে।
করোনাভাইরাস মহামারীর বিরূপ এই সময়ে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রশ্ন করেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ না হলে এখন কী পরিস্থিতির মধ্যে দেশবাসীকে পড়ত হত?
এটুআই নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়াজ মোহাম্মাদ জিয়াউল আলম, কিশোর সাইবার নোবেল জয়ী সাদাত রহমান এবং সিমপ্রিন্ট টেকনলোজির সিইও ডিজিটাল আইডেন্টিটি ড. টোবি।