কুমিল্লায় প্রতিবছর এক হাজার কর্মসংস্থান হবে কুমিল্লা নলেজ পার্কে : পলক
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কুমিল্লার লালমাইয়ের দত্তপুরে হচ্ছে "নলেজ পার্ক"। শনিবার পার্কের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয় দত্তপুর মৌজায় ৭ দশমিক ৮৮ একর জায়গায় এই নলেজ পার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হলে প্রায় ১০০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর ৩০০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী অক্টাবরে উদ্বোধন হতে পারে পার্কটি। সেই প্রত্যাশা নিয়ে অনুষ্ঠানেই স্থানীয় ফ্রিল্যান্সর আরাফাত বিন কাশেম-কে নব নির্মিত পার্কে ২০০০ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন উই ট্রাস্ট প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশাও।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএসএম জাফরউল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সফল ফ্রিল্যান্সারদের উদ্যোক্তা হতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সারদের পুঁজি, প্রশিক্ষণ, এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সবরকম সহযোগিতা দিয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। আজ থেকে ১৪বছর আগে কেউ কল্পনাও করেনি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎের ব্যবস্থা আমরা করতে পারবো। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন আমাদেরকে দেখিয়েছিলেন, সেই স্বপ্নপূরণের জন্য দিনরাত শ্রম, সততা, সাহসিকতা, দূরদর্শিতা দিয়ে তিনি সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৭০শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৩৫বছরের নিচে। প্রাইমারি, হাইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় ৫কোটি ছেলেমেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। এরাই ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনজীবি, বিজ্ঞানী, সচিব, এমপি-মন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। সেকারণেই মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি মূল স্তম্ভ ঠিক করে দিয়েছেন। যার প্রথম এবং প্রধান স্তম্ভ হলো স্মার্ট সিটিজেন। তাঁর পরামর্শেই আমরা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আইসিটি সাবজেক্টকে বাধ্যতামূলক করেছি এবং কম্পিউটার শিক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সারা বাংলাদেশে ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছি। আগামীদিনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতির কোন বিকল্প নেই। উন্নত দেশগুলো যারা প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে, তারা হয়তো রোবট বা এমন কোনো প্রযুক্তি বানাবে যেটা শ্রমের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেবে। সেজন্য আমাদের জ্ঞানসমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে’।
এছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান, জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়) প্রকল্পের পরিচালক এ কে এ এম ফজলুলসহ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







