করনীতি ঢেলে সাজানোর আহ্বান এমটবের

১৬ জুন, ২০২০ ১৪:১৬  
সরকার ঘোষিত জরুরী সেবা হিসেবে মোবাইল সেবা খাতের করনীতি ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। মঙ্গলবার বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এস এম ফরহাদ বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের মধ্যে পরিবহন, কৃষি; স্টার্টআপ ব্যবসায়, জরুরী সেবা, শিক্ষা, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা, স্বাস্থ্য কর্মী, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এসব কিছুতেই এখন মোবাইলের ব্যবহার হচ্ছে। শতকরা ৯৫ শতাংশই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। জীবন-জীবিকা, বিনোদন সবকিছুতেই ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেট। কিন্তু সংসদে ঘোষিত বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটেনি। ন্যায্যতাও বিবেচনায় আনা হয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে আরোপিত ৫ শতাংশ কর ধার্যের পাশাপাশি ভ্যাট আপিলে জামানত ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এটা নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায় সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলবে। ‘তামাক শিল্পের জন্য আয়ের ওপর সর্বনিম্ন কর ১ শতাংশ হলেও মোবাইল খাতে ২ শতাংশ রাখা হয়েছে। সমান ৪৫ শতাংশ কর্পোরেট করভার রয়েছে মোবাইল খাতে’ যোগ করেন তিনি। এস এম ফরহাদ বলেন, সার্বিক বিবেচনায় মূলধন ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের টেলিকম খাত। বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন প্রতিপালিত হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে জিএসএম ইন্টিলিজেন্স এর উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের একজন মোবাইল ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মোবাইল অপারেটররা গড়ে ১৪০ টাকা আয় করে জানিয়ে এমটব মহাসচিব বলেন, এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। সংবাদ সম্মেলনে রবি'র চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, ৫ শতাংশ এসডি ধার্য করায় ৭০৮ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে। বিপরীতে আয় হবে ৩০৪ কোটি টাকা। এটা ডিজিটাল অর্থনীতিতে প্রবেশের পথে বাধা সৃষ্টি করবে। বাংলালিংক এর চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ১৪টি দেশে ভিওনের ব্যবসায় রয়েছে। বাংলাদেশের মতো অন্য দেশে এতো কর নেই। এ কারণে বিনিয়োগ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। গ্রামীণফোনের ডাইরেক্টর ও হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরে এসডি অন্তরায় হবে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের পথে নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণকে দূরে ঠেলে দেবে।