কয়লা বা তেলের থেকেও ডাটা খনি অনেক বড়: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
কয়লা বা তেলের থেকেও ডাটা খনি অনেক বড় হলেও বাংলাদেশের ডাটা ব্যবস্থাপনায় সরকারি উদ্যোগ প্রাথমিক এবং ব্যক্তি পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তার দেয়া তথ্য অনুাযায়ী, বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেন। এই খরচের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে (ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বা অবৈধভাবে) হয়। যার কারণে দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বা বৈদেশিক লেনদেনের ওপর উপর যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশিদের প্রাথমিক গন্তব্য ভারত ও থাইল্যান্ড।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। 'ক্রস বর্ডার ডাটা ফ্লো : এ বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ'- শীর্ষক কর্মশালার যৌথভাবে আয়োজন করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশে তথ্য আদান-প্রদান হয় না বললেই চলে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, যার যার তথ্য তার তার কাছেই থাকে। এমনকি নিজেদের মধ্যেও তথ্য আদান-প্রদান করা হয় না। আমি মনে করি ডাটাবেজ, ডাটা মাইনিং, ডাটা স্টোরেজসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যদি আমরা উন্নতি করতে পারি তাহলে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারব। এজন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইনি কাঠামো তৈরি এবং আচরণগত পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের ডাটা স্টোরেজের কোনো পলিসি নেই। বাংলাদেশে এখনো ডমেস্টিক ক্লাউড সার্ভিসগুলো সেভাবে ডেভেলপ করেনি। এটা না করলে আমরা তথ্যগুলো সংরক্ষণ করতে পারব না। সেটা মেডিকেল হোক, ট্যুরিজম হোক বা ফাইন্যান্সিয়াল হোক।
গভর্নর আরও বলেন, ব্যাংকের তথ্যের ক্ষেত্রেও সরকারিভাবে বলা হয় যে তিনটি ফ্যাসিলিটি রাখা; ডাটা সেন্টার, রিকভারি সেন্টার, ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার, যা ব্যাংকের পক্ষে ম্যানেজ করা অর্থাৎ তথ্যনিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা অনেক কঠিন। এই জায়গায় আমরা সম্মিলিতভাবে আইনগতভাবে কাজ করতে পারি। বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যাংকগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে।
আমাদের আইনগতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে কাজ করতে হবে। যদি স্থানীয়করণ পলিসিগুলো আমরা ঠিকমতো অ্যাডজাস্ট না করি, তাহলে কিন্তু তথ্যের ব্যবহারটা হবে না, যোগ করেন গভর্নর।
কর্মশালায় গভর্নর বলেন, অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে ডাক্তার দেখায়। স্বাস্থ্যখাতে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে। আমরা গবেষণা করতে পারছি না। কারণ বিগ ডাটা আমাদের কাছে নেই। যদি থাকতো তাহলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বুঝতে পারতাম যে কোনটি বেশি কার্যকর।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, পৃথিবীর সব দেশে এখন খনির চাইতে ডাটা মাইনিং বেশি করে। এর মাধ্যমে যে খনি হয় সেটার দাম অনেক বেশি। কয়লা খনি বা তেল খনি থেকেও ডাটা খনি অনেক বড়। বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষ আছে। এখানে অনেক ডাটা তৈরি হচ্ছে। আমাদের মোবাইল সিস্টেম থেকে হচ্ছে, আমাদের ক্ষুদ্র-মাঝারি খাত থেকে হচ্ছে, ট্যুরিজম সেক্টর থেকে হচ্ছে, কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে এর কোনো ভ্যালু আমরা পাচ্ছি না।
কর্মশালা সঞ্চালনা এবং সূচনা বক্তব্য দেন পিআরআই চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদি সাত্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট নিধি পারেখ। প্রবন্ধের বাংলাদেশ অংশ তুলে ধরেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।
জায়েদি সাত্তার বলেন, “তথ্য আদান প্রদানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে কম সংযুক্ত। এখানে রাজনৈতিক সীমানা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে যা আরও বেশি বাস্তব।”
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন পিআরআই গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ডেপুটি ডিরেক্টর মহিবুল ইসলাম, ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. সাব্বির হোসেন প্রমুখ।







