এখন কথা বলবে সরকারি ৫২ হাজার ওয়েব সাইট : পলক

২০ মার্চ, ২০২২ ১১:৪১  
শিগগিরি কথা বলতে শুরু করবে সরকারের ৫২ হাজার ওয়েব সাইট। এসজন্য এই ওয়েবসাইটগুলোতে ব্যবহার করা হবে অ্যাসেসটিভ টুলস টেকনোলজি টেক্সট টু স্পিচ ও স্পিচ টু টেক্সট। রোববার (২০ মার্চ ২০২২) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকুরি মেলা ২০২২’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জানিয়েছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে টকিং হোয়াইট স্টিক ও  চশমায় ক্যামেরা ব্যবহার করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সহায়তার মতো নানান ডিভাইস উদ্ভাবনে সহযোগিতা করছে আইসিটি বিভাগ। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫২ হাজার ওয়েবসাইট আছে সরকারের। প্রত্যেকটা ওয়েবসাইট এখন কথা বলবে। অর্থাৎ একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সে ওয়েবসাইটটা যদি পড়তে নাও পারে তা টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়্যারে মাধ্যমে তাকে শুনিয়ে দেবে। আবার কেউ যদি কোনো কিছু খুঁজতে চায় তাহলে স্পিচ টু টেক্সট ব্যবহার করে মুখে বলেই তা খুঁজতে পারবে। এ জন্য আমরা বাংলায় আইসিটি বিভাগ থেকেই এই টুল তৈরি করছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সাল নাগাদ জ্ঞান ভিত্তিক উদ্ভাবনী বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করতে আইসিটি বিভাগ ২০১৭ সাল থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই প্রকল্পে এরই মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের আঞ্চলিক কার্যালয় গুলো থেকে ৪ হাজার ২০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সন্তানের মধ্যে অটিস্টিক লক্ষণ আছে কি না তা নির্ধারণে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এই প্রক্রিয়াকে আরো এগিয়ে নিতে এম্পোরিয়া ওয়েবসাইট করেছি। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৭০০ জন বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তি চাকরি পেয়েছে। প্রযুক্তিতে তরুণদের সাফল্য অভাবনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে অল্পদিনের মধ্যেই এ ধরনের আরো একটি প্রকল্প আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে যাচ্ছি। দেড় শ’ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার ৬০০ জন প্রতিবন্ধীকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মী হিসেবে গড়ে তুলবো। এর মধ্যে ৬০০০ জনকে ইনকিউবেশন ও মেন্টরশিপের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু চাকরিই নয় তাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ই-ক্যাব সভাপতিকে জয়ীতা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রকল্প নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আইসটি বিভাগের মতো অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও দায়িত্ব নিয়ে এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশে কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ডঃ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিএসআইডি’র নির্বাহী পরিচালক জহুরুল আলম ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক তারিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দেশের প্রথম ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস ল্যাব এইমস ল্যাব পরিচালক প্রফেসর ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন, সুচনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডাঃ সাথী, ইক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, মাই আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠাতা তানজিবুল বাশার প্রমুখ।