এআই সেফটি সামিট: জোটবদ্ধ চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ

১ নভেম্বর, ২০২৩ ২৩:২১  

যুক্তরাজ্যের মিল্টন কেইনস শহরের কাছে ব্লেচলি পার্কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুরক্ষায় বুধবার শুরু হয়েছে এআই সেফটি সামিট। সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশের সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি পরিচালনা করতে সম্মত হয়েছে চীন।

এআই ব্যবহার করে অগ্রসরমান ওষুধ আবিস্কার, নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবহনের সুবিধা নিয়ে আলোচনা করছেন বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি মন্ত্রীরা। তারা আলোকপাত করছেন পাবলিক সার্ভিসের উন্নতি, সেইসাথে রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার গতি বাড়ানো এবং উন্নত করণের ওপর। এছাড়াও কিছু টেক এক্সিকিউটিভ এবং রাজনৈতিক নেতারা সতর্ক বার্তাও দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এআই এর দ্রুত বিকাশ বিশ্বের জন্য একটি অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সুরক্ষ ও নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এআই এর এরূপ ঝুঁকির বিষয়ে সকলে ঐক্যমতে পৌঁছার মাধ্যমে কীভাবে এটি পরিচালনা করা যায়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো যায় এবং বিশ্বব্যাপী ভালোর জন্য কতটা নিরাপদ এআই ব্যবহার করা যেতে পারে তা জানাতে শীর্ষ সম্মেলনের নিজেদের পরিকল্পনা লক্ষ্যগুলি তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

সুনাক বলেছেন ‘এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সম্মিলিত ভাবে’।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটেনের বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিষয়ক ব্রিটিশ সেক্রেটারি অফ স্টেট মিশেল ডোনেলান বলেন, এআই ক্ষেত্রের অগ্রগতি দেখে বিশ্ব অবাক হয়েছে। এরইমধ্যে এআই সিস্টেমগুলি সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। এটি ক্লান্তিকর কাজ থেকে আমাদের ছুটি দিয়ে সৃজনশীল ক্ষমতাকে প্রসারিত করতে পারে।

ইলন মাস্ক এবং চ্যাটজিপিটির স্যাম অল্টম্যানের মতো কারিগরি প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন চীন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশের শীর্ষ ব্যক্তিরা। সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন, সেইসাথে ইইউ সহ উপস্থিত ২৫টিরও বেশি দেশ "ব্লেচলি ঘোষণা" স্বাক্ষর করেছে। ঘোষণায় একটি দ্বি-মুখী এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে যা নিজেদের মধ্যে শেয়ার করা উদ্বেগের ঝুঁকিগুলি চিহ্নিত করণ এবং সেগুলি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সেগুলি হ্রাস করার জন্য আন্তঃদেশীয় নীতিমালা প্রণয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেমে ঝুঁকি পরীক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা ব্রিটেনের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার তৈরি করতে আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। সুপারকম্পিউটারটি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিক হবে এবং ৫,০০০ এনভিডিয়া কৃত্রিম চিপ ব্যবহার করে নির্মিত হবে; চলতি সপ্তাহের শুরুতে এমনটাই প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, সুপারকম্পিউটারটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান দ্রুততম মেশিনের চেয়ে ১০গুণ দ্রুততর হবে এবং এটি হবে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০টি সুপার কম্পিউটারের অন্যতম।

নতুন মেশিনটি প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন গণনা করতে সক্ষম হবে। এটি উন্নত এআই মডেলগুলি বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি পরীক্ষা করে নিরাপত্তা অটুট রাখবে।

দ্য টেলিগ্রাফ প্রকাশিত সংবাদের হিসাবে সরকারের এই প্রকল্পে করদাতাদের ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন উইরোতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও চলমান শেষ মুহূর্তে ৩০০ মিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনে।

সর্বশেষ মার্চ মাসে বিনিয়োগের তিন ভাগ কমিয়ে ১০০ মিলিয়ন উইরো ঘোষণা দিয়েছিলো ডাউনিং স্ট্রিট। এই তহবিলে কেমব্রিজে একটি ছোট সুবিধা চালু করতেও ব্যবহার করা হবে, যেখানে ইন্টেল একটি সুপার কম্পিউটারকে পাওয়ার জন্য ১০০০টিরও বেশি চিপ সরবরাহ করবে।