ইন্টারনেটের গতি ও গ্রাহকের সামর্থ্য বিবেচনার দাবী

৯ জুন, ২০২১ ১১:৫৮  
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি পরিমাপ ও গ্রাহকদের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ৬ জুন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন কর্তৃক "এক দেশ এক রেট"স্লোগানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এবং অনুষ্ঠান উদ্বোধন এর সাথে সাথেই নতুন মূল্য কার্যকরের শুরু হলো বলে মাননীয় মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এখানে ৫এমবিপিএসের মূল্য ধরা হয় ৫শত টাকা, ৭ এমবিপিএস এর মূল্য ৮শত টাকা, এবং তৃতীয় প্রজন্মের২০ এমবিপিএস এর মূল্য ধরা হয় ১হাজার২০০টাকা। কিন্তু এই মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান করোনা মহামারী এবং গ্রাহকদের সামর্থ্য ও পরামর্শ বিবেচনায় নেয়া হয়নি। কেবলমাত্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গণতান্ত্রিক সরকারের নীতির পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, এই মূল্য ঘোষণা পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মতামত ও পরামর্শ ইতিমধ্যেই পেয়েছি। প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের অনেকেই এই মূল্যকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি হচ্ছে ইন্টারনেটের যে গতির কথা বলা হচ্ছে সেই পরিমান ক্ষতি প্রান্তিক পর্যায়ে নাই। তাই তাদের দাবি অনুযায়ী সবার আগে ইন্টারনেটের গতি পরিমাপ পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরী। আবার অনেক প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের বক্তব্য করণা মহামারীর মধ্যে যেখানে ছেলে মেয়েদের মুখে ভাত তুলে দিতে পারছি না সেখানে এত উচ্চ মূল্যে ইন্টারনেট কিভাবে ব্যবহার করব। আবার রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলিতে দেশের বড় আইএসপি অপারেটরদের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ১হাজার টাকার ওপর। তারা এ মূল্য ক্ষমা চেয়ো না এবং সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মূল্য কার্যকর এখন পর্যন্ত করে নাই।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে সারাদেশব্যাপী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতির পরিমাপের জন্য ড্রাইভ টেস্ট করা হোক। যেসকল আইএসপি প্রান্তিক পর্যায়ে সহ সারাদেশে মানসম্মত গতি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হবে তাদের লাইসেন্স বাতিল সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। পাশাপাশি করোনা মহামারীতে সামনে রেখে দেশের শিক্ষার্থীদের ও প্রান্তিক কৃষকদের সামর্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হোক।