আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করাই তাদের পেশা

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০২:০৬  
আইএমইআই নম্বর (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) পরিবর্তন করে রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে চোরাই ওয়ালটন, সিম্ফনি, স্যামসাং, নকিয়া, মাইক্রোম্যাক্সসহ নানা ব্র্যান্ডের মোবাইল। ফ্ল্যাশিং ডিভাইস সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে এসব মোবাইল বেশি দামে বিক্রি করা হয়। আর পেশাদার অপরাধীরা এই আইএমইআই পরিবর্তিত মোবাইল ব্যবহার করে বড় অপরাধ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত দুই আসামির কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। একদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম ওই দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এই দুজন হলেন—শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার নওপাড়া গ্রামের হযরত আলী (৪৯) ও মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার আলদি বুড়িতলা গ্রামের ইকবাল হোসেন (১৯)। তাদের বিরুদ্ধে দেয়া পল্টন থানা-পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোরাই মোবাইল ফোন কেনার পর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করাই ছিলো তাদের পেশা। আসামিরা সংঘবদ্ধ মোবাইল ফোন চোর চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই মোবাইল ফোন সংগ্রহ করেন। পরে সেসব মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর বদল করে বিক্রি করেন। সূত্রমতে, গত ১৫ জুলাই রাজধানীর মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের প্রীতি ইলেকট্রনিকস দোকানের সামনে থেকে ৭০টি চোরাই মোবাইল ফোনসহ এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)–৩)। ওই ঘটনায় র‍্যাবের পরিদর্শক মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে অভিযান চালিয়ে ৫৩১টি চোরাই মোবাইলসহ মোতালেব (২৬), রিপন (৩৭), মান্নান (৩৯), রাশেদ খান (২৪) আনিস মোল্লা (২৮) জাহিদুল ইসলাম (২১) পলক (১৯) রাশেদুল ইসলাম (২১) নাঈম সর্দার (১৮) স্বপন (২৬) রানা হামিদ (২২) মাসুদ রানা (২৪) নাজিম (২৬) কামাল হোসেন (১৭) নামের পেশাদার আইএমআই টেম্পারদের গ্রেপ্তার করেছিলো র‌্যাব-৩। তখন গুলিস্তান পাতাল মার্কেট ও ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ১১টি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় কাগজবিহীন পাঁচ শতাধিক মোবাইল। চোরাই মোবাইলফোন বিক্রির এই দোকানগুলোর নাম- আলী ইলেকট্রনিক্স, সিমলা ইলেকট্রনিক্স, সাকিব ইলেকট্রনিক্স, আজমেরি ইলেকট্রনিক্স, আবির ইলেকট্রনিক্স, সুমাইয়া টেলিকম, ইলেকট্রনিক্স কর্নার, ইলোক কনিক্স কর্নার, আলামিন ইলেকট্রনিক্স, রহমত ইলেকট্রনিক্স এবং সিটি ইলেকট্রনিক্স।