ছয় দফা দাবিতে উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস, রবিবার ফের অবস্থান

৩০ মার্চ, ২০২৪ ২০:১৮  

শনিবার সকাল থেকে ছয় দফা দাবিতে উত্তাল বুয়েট ক্যাম্পাস। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুরুতে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে, পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান করেন। টার্ম ফাইনালসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেন।

তবে শিক্ষার্থীরা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে দাবির বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি। আন্দোলনরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় আজ কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শেষে রবিবার সকাল ৭টা থেকে আবারও বুয়েট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল থেকেই ছয় দফা দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পাদদেশে অবস্থান নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেখানে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রবেশের মাধ্যমে বুয়েটে একটি কুচক্রী মহল ছাত্র রাজনীতি চালু করার অপচেষ্টা করছে।

শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসে বারবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে ছাত্রলীগ। তাদের অভিযোগ,  'ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পদ দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে দুই বছর আগেও আমরা আন্দোলন করেছি। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ক্যাম্পাসের বাইরে কেউ রাজনীতি করলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতারা সেসব সদস্যদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ঢুকে বৈঠক করছে। ছাত্রলীগ বুয়েটে আবার সক্রিয় হতে চেষ্টা করছে এবং প্রশাসনও তাদের পক্ষেই ভূমিকা রাখছে। এটি দুঃখজনক।'

এদিকে আন্দোলনের মুখে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার। তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় ছাত্রলীগের সমালোচনা করেন। উপাচার্য বলেন, 'গভীর রাতে কেউ (ক্যাম্পাসে) ঢুকলে এটা অবশ্যই অনিয়মতান্ত্রিক। যদি কোনো নিরাপত্তারক্ষী বহিরাগত ব্যক্তিদের ঢুকতে দিয়ে থাকেন, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আর কে কে ঢুকেছে, তাদের তো আগে চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত না করে তো শাস্তি দেওয়া যাবে না। তার জন্য সময় প্রয়োজন।'

উপাচার্য আরও বলেন, 'পুরো ঘটনা তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।'

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের (ডিএসডব্লিউ) পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটা নিয়ম মেনে ব্যবস্থা হবে। তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। ডিএসডব্লিউ বলেছেন, তার পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না। শিক্ষার্থীরা দাবি করতেই পারে, কিন্তু দাবির মুখে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না।'