তপ্ত রোদে ফ্যাশনে থাকুক হ্যাট
গ্রীষ্মের প্রখর দুপুর কিংবা বিকেলের তপ্ত রোদ; বাইরে বেরোলেই যেন আগুনের হলকা এসে লাগে মুখে। সূর্যের কড়া অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকেরই ক্ষতি করে না, নিমিষেই কেড়ে নেয় চেহারার সজীবতা। এই রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা বা ওড়না তো আছেই, কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের কাছে সুরক্ষার পাশাপাশি ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে হ্যাট। এক সময় হ্যাট […] The post তপ্ত রোদে ফ্যাশনে থাকুক হ্যাট first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.

গ্রীষ্মের প্রখর দুপুর কিংবা বিকেলের তপ্ত রোদ; বাইরে বেরোলেই যেন আগুনের হলকা এসে লাগে মুখে। সূর্যের কড়া অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকেরই ক্ষতি করে না, নিমিষেই কেড়ে নেয় চেহারার সজীবতা। এই রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা বা ওড়না তো আছেই, কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের কাছে সুরক্ষার পাশাপাশি ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে হ্যাট। এক সময় হ্যাট কেবল সমুদ্র সৈকত কিংবা ভ্রমণে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন নাগরিক ফ্যাশনে এটি যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। কেবল রোদ থেকে বাঁচতেই নয়, নিজের ব্যক্তিত্বকে একটু আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতেও হ্যাটের জুড়ি মেলা ভার।
পোশাকের সাথে হ্যাটের মেলবন্ধন
হ্যাট পরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পোশাকের সাথে এর সঠিক সামঞ্জস্য। আপনি যদি ক্যাজুয়াল কোনো পোশাক যেমন জিন্স আর টপস কিংবা কুর্তি পরেন, তবে সাধারণ বেসবল ক্যাপ বা ছোট ব্রিমের হ্যাট বেশ মানানসই। অন্যদিকে গ্রীষ্মের বিকেলে যদি হালকা সুতির শাড়ি বা লিনেন গাউন পরেন, তবে চওড়া ঘেরের স্ট্র হ্যাট বা পাটের তৈরি হ্যাট আপনার লুকে নিয়ে আসবে আভিজাত্য। বর্তমানে হ্যাটের ওপর বিভিন্ন নকশা, ফিতা কিংবা ছোট ফুল যুক্ত করে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। ফলে হ্যাট এখন কেবল প্রয়োজনীয় বস্তু নয়, বরং রুচিশীল ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উপাদানে থাকুক আরামের ছোঁয়া
গরমের মৌসুমে ফ্যাশন মানেই আরামের প্রাধান্য। হ্যাটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। আমাদের আবহাওয়ায় প্লাস্টিক বা সিন্থেটিক উপাদানের হ্যাট এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে মাথা ঘামলে অস্বস্তি বাড়ে। এর বদলে বেছে নিতে পারেন প্রাকৃতিক তন্তু বা খড়ের তৈরি স্ট্র হ্যাট। এগুলো যেমন ওজনে হালকা, তেমনি এর সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে বলে মাথা ঠান্ডা থাকে। এছাড়া সুতির মোটা কাপড়ের তৈরি হ্যাট বা ক্যানভাস হ্যাটও বেশ আরামদায়ক হতে পারে, যা খুব সহজেই ধুয়ে পরিষ্কার রাখা যায়।
মুখের গড়ন ও সঠিক বাছাই
সব হ্যাট সবার মুখে মানায় না, তাই বেছে নেওয়ার আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু পরখ করে নেওয়া জরুরি। যাদের মুখ গোলাকার, তারা একটু কৌণিক বা উঁচু ক্রাউনের হ্যাট বেছে নিতে পারেন। এতে মুখ কিছুটা লম্বাটে দেখাবে। আবার যাদের মুখ লম্বাটে ধাঁচের, তারা চওড়া কিনারার হ্যাট অনায়াসেই পরতে পারেন, যা কপাল ও মুখের মধ্যবর্তী অংশে ভারসাম্য তৈরি করবে। মনে রাখবেন, সঠিক হ্যাট কেবল আপনার সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং আপনার আত্মবিশ্বাসকেও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
শৌখিন হ্যাটের খোঁজে কোথায় যাবেন?
বর্তমানে হ্যাট কেনা বেশ সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। আপনি যদি রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা হন, তবে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক নকশার হ্যাটের জন্য প্রথমেই ঢুঁ মারতে পারেন যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি কিংবা সীমান্ত সম্ভারের মতো বড় শপিং মলগুলোতে। বিশেষ করে আড়ং, টেক্সটাইল বা জেন্টল পার্কের মতো লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোতে প্রতি বছর গ্রীষ্মের সংগ্রহে চমৎকার সব হ্যাট পাওয়া যায়। এছাড়া নিউ মার্কেট বা গাউছিয়া মার্কেটে একটু খুঁজলে বেশ কম দামে ফ্যাশনেবল স্ট্র হ্যাট ও ক্যানভাস হ্যাট মিলবে। যারা ঘরে বসে কেনাকাটা পছন্দ করেন, তারা দারাজ কিংবা ফেসবুকের বিভিন্ন ফ্যাশন পেজ থেকে নিজেদের পছন্দমতো হ্যাট অর্ডার করতে পারেন।
বাজেট ও দামের ধারণা
হ্যাটের দাম মূলত নির্ভর করে এর উপাদান, নকশা এবং ব্র্যান্ডের ওপর। সাধারণ মানের সুতি বা ক্যানভাস হ্যাট বা ক্যাপগুলো সাধারণত ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। তবে একটু উন্নতমানের স্ট্র হ্যাট বা পাটের তৈরি শৌখিন হ্যাট কিনতে চাইলে বাজেট রাখতে হবে ৬০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে। ব্র্যান্ডেড বা আমদানি করা নকশাদার হ্যাটগুলোর দাম ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। উৎসব বা ভ্রমণের জন্য যারা বিশেষ ডিজাইনের হ্যাট খুঁজছেন, তারা একটু বেশি দাম দিয়ে টেকসই হ্যাট কিনলে তা বছরের পর বছর নতুনের মতো ব্যবহার করতে পারবেন।
রক্ষণাবেক্ষণে সচেতনতা
একটি শৌখিন হ্যাট দীর্ঘস্থায়ী করতে এর একটু যত্ন প্রয়োজন। বাইরে থেকে ফিরে এসে ধুলোবালি ঝেড়ে নির্দিষ্ট স্থানে হ্যাট রাখা উচিত। খেয়াল রাখতে হবে যেন এর আকার নষ্ট না হয়। রোদে ভিজে বা ঘামে হ্যাট স্যাঁতসেঁতে হলে ফ্যানের বাতাসে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। ফ্যাশন সচেতন মানুষের সংগ্রহে একটি মানানসই হ্যাট এখন সময়ের দাবি। এটি যেমন আপনাকে সূর্যের তীব্রতা থেকে রক্ষা করবে, তেমনি সাধারণ কোনো সাজকেও মুহূর্তেই করে তুলবে অনন্য এবং আধুনিক। তাই এই গরমে রোদের কাছে হার না মেনে নিজেকে সাজিয়ে তুলুন রঙিন কোনো হ্যাটের ছায়ায়।
The post তপ্ত রোদে ফ্যাশনে থাকুক হ্যাট first appeared on সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net.







