ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় উত্তাল শাবিপ্রবি

ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় উত্তাল শাবিপ্রবি
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩৯  

ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসুর পর এবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে যখন সরগরম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তখন আকস্মিক ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যা থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাত ১১টায় বিভিন্ন আবাসিক হল ও মেসের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে গোলচত্বরে জড়ো হন। সেখানে নির্ধারিত সময় আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। 

বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা, ‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা চলবেনা চলবেনা’ ‘২০ তারিখে শাকসু, দিতে হবে দিতে হবে’ ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’ ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত মানিনা মানবোনা’ ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এ বিষয়ে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ইসির এ প্রজ্ঞাপন যদি সঠিক হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় করে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা লাগতে পারে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব শাকসু নির্বাচনে পড়বে না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন স্থগিত করাকে তারা ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে তারা আগামীকাল ভর্তি পরীক্ষা হতে দেবেন না।
 

বিক্ষোভে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগামীকাল ভর্তি পরীক্ষা, আর ঠিক তার আগের দিন এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে যাতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায়। এটি একটি ডিজাইন বা ষড়যন্ত্র। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র মানব না। ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন দিতে হবে, তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

শাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, শাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। ২৩টি পদে ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৯ হাজার ১২৪ জন। শাহপরান হলে ২ হাজার ২২০, বিজয়-২৪ হলে ২ হাজার ১৫৬, সৈয়দ মুজতবা আলী হলে ১ হাজার ৪২২ জন ভোটার আছেন। ছাত্রীদের আয়েশা সিদ্দীকা হলে ১ হাজার ৩৪৪, বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলে ১ হাজার ৩০৬ এবং ফাতিমা তুজ জোহরা হলে ৬৭৬ জন ভোটার আছেন।

প্রসঙ্গত, প্রায় ২৯ বছর পর আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য শাকসু নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্পাস জমজমাট হয়ে উঠেছিলো। সর্বশেষ প্রায় ২৯ বছর পর শাকসু নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্পাস জমজমাট হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, শাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ ও বাম সমর্থিত ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ এই তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে লড়ছে ছাত্র সংগঠনগুলো। এর বাইরে বেশ কয়েকটি পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ডিবিটেক/এসটিও/এমইউএম