২০২৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ২১০ কোটি ডলারের প্রতারণা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতারণার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) জানিয়েছে, কেবল ২০২৫ সালেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহকরা ২১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি) হারিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে এই প্রতারণার হার বেড়েছে প্রায় আট গুণ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এফটিসি জানায়, প্রতি তিন জন প্রতারিত ব্যক্তির মধ্যে অন্তত এক জন জানিয়েছেন যে তাদের এই বিড়ম্বনার সূত্রপাত হয়েছিল কোনো একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে।
কেন ফেসবুক সবচেয়ে বড় লক্ষ্য?
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে ফেসবুক সব প্ল্যাটফর্মের শীর্ষে অবস্থান করছে। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামের তুলনায় ফেসবুকে শুরু হওয়া প্রতারণাগুলোতে গ্রাহকরা বেশি অর্থ হারিয়েছেন। এমনকি সাধারণ টেক্সট মেসেজ বা ইমেইল স্ক্যামের চেয়েও ফেসবুকের মাধ্যমে হওয়া জালিয়াতির পরিমাণ অনেক বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফেসবুকের ব্যাপক জনপ্রিয়তাই একে স্ক্যামারদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যবহারকারীরা, যারা পরিবার, বন্ধু বা স্থানীয় কেনাবেচার গ্রুপের ওপর বেশি নির্ভর করেন, তারা সহজেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
যেভাবে কাজ করে এই প্রতারণা
স্ক্যামাররা সোশ্যাল মিডিয়ার নিজস্ব ডিজাইন ও ফিচারগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
টার্গেটেড বিজ্ঞাপন: নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে লক্ষ্য করে ভুয়া অফার বা বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া।
অ্যাকাউন্ট হ্যাক: পরিচিত কারো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাহায্যের নামে টাকা চাওয়া।
ছদ্মবেশ ধারণ: নামী ব্র্যান্ড বা পরিচিত কোনো ব্যক্তির ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে বিভ্রান্ত করা।
রোমান্স স্ক্যাম: ভুয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে কোন খাতে?
১. বিনিয়োগ প্রতারণা: ২০২৫ সালে বিনিয়োগের নামে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১১০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া সাফল্যের গল্প শুনিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক গ্রুপে এই ফাঁদ পাতা হয়।
২. কেনাকাটা বা শপিং স্ক্যাম: সংখ্যার দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করার পর তা আর গ্রাহকের হাতে পৌঁছায় না।
৩. রোমান্স স্ক্যাম: প্রেমের অভিনয় করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার প্রায় ৬০ শতাংশই শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে।
এআই এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া বার্তা, ছবি, এমনকি কণ্ঠস্বর তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল এবং নকল চেনা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এফটিসি-র সুরক্ষা পরামর্শ:
নিজের প্রোফাইল যতটা সম্ভব ‘প্রাইভেট’ বা ব্যক্তিগত রাখুন।
অনলাইনে পরিচিত হওয়া কারো দেওয়া বিনিয়োগের পরামর্শে কান দেবেন না।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কেনাকাটার আগে ওই কোম্পানির নামের সাথে ‘scam’ বা ‘complaint’ লিখে গুগলে সার্চ করে তাদের সুনাম যাচাই করে নিন।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: ডিজিটাল ট্রেন্ডস







