ইউটিবারদের ওপর চটেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউটিবারদের ওপর চটেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৯  

ইউটিউবারদের ওপর দারুণ চটেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে চলা সংস্কৃতিকে ‘লাগামহীন অপপ্রচার’ এবং ‘গালিগালাজের সংস্কৃতি’ অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। বক্তব্যে কয়েকবার হিন্দিতেও কথা বলেন তিনি। 

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাক-ব্যক্তির স্বাধীনতার নামে যা চলছে, এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, আমরা যদি নিজে নিজে নিয়ন্ত্রণ না হই, এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। কিছু আছে দেশে, কিছু আছে বিদেশে আর কিছু আছে ঘরের মধ্যে। মনে হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র বাকস্বাধীনতা তাদেরই আছে। আর আমরা এখানে সব নিরীহ জনগণ। কাউন্টার করলে আরও গালিগালাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্ত্রী-কন্যাকে জড়িয়ে যেভাবে স্বাধীনতার নামে কুৎষিত কলঙ্কিত ধারা চলছে।” 

তিনি বলেন, “যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যাবে। গালিগালাজের প্রতিযোগিতায় নামলে কেউ বেশি দূর এগোতে পারবে না এবং এই অনাচার বন্ধ না হলে আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে।” 

মন্ত্রী  বলেন, “সংবিধানে বাক-স্বাধীনতার কথা বলা হলেও তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধের অধীন। কিন্তু বর্তমানে স্বাধীনতার নামে যা চলছে, তাকে সাবজেক্ট টু রিজনেবল রেস্ট্রিকশন হিসেবে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা জরুরি।” 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্দেশে নবীন রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে যেমন একটি দল পালিয়েছে, জুলাইয়ের চেতনা নিয়েও যেন কেউ রাজনৈতিক ব্যবসা না করে। জুলাই বিপ্লব সবার এবং এর কৃতিত্ব কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং যারা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াইয়ে রক্ত দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা নির্যাতিত হয়েছেন, তারা সবাই এর সমান অংশীদার।” 

‘আমরা নিজেদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, একাত্তার-বাহাত্তর করতে করতে স্মৃত-বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সময়কালের নির্যাতন-নিপীড়ন ও লুটপাটের কাহিনী ভুলে যাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কারের বাহানায় নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সবকিছুতে আপস করেছেন বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তারা সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সেজন্য সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি। একত্র হয়েছি, সমঝোতা হয়েছে।’ বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এতে দুটি লাভ আছে। একটা হচ্ছে দায়িত্ববোধ বাড়ে। আর উজিরে খামাখা অথবা মন্ত্রী মন্ত্রী ভাবের একটা সুখ পাওয়া যায়। তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই। আমার বিপরীতে বোধহয় সোজাসুজি আছেন- হোম মিনিস্টার স্যাডো। আসুন স্যাডো মিনিস্ট্রি হিসেবে আমরা পরস্পর তথ্য বিনিময় করবো, যোগাযোগ রাখবো, কথা বলবো।’

সংস্কার কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের কিছু বড় ভাই-বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তারা মাথায় টুকরিভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে আমাদের সংস্কার কমিশনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে। এখানে বলা হয় নোট অব ডিসেন্টের বিষয় ছিল না। ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিনই সিদ্ধান্ত হয়, নোট অব ডিসেন্ট সহকারে জুলাই সনদ প্রণীত হবে। সেই নোট অব ডিসেন্ট সহকারে স্বাক্ষর হয়েছে। আপনারা স্বাক্ষর করেছেন। আমরাও করেছি। আসুন সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি।’
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম, আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শিশু মুক্তিযোদ্ধা। তাকে আমি স্বাগতম জানাই। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন, সেটা আমার ভালো লাগে। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও ওই পাড়ে আছেন।’
ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে