স্টার্টআপ বাংলাদেশের নতুন এমডি নুরুল হাই

স্টার্টআপ বাংলাদেশের নতুন এমডি নুরুল হাই
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯  
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:২৫  

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পেলো সরকারি ভেঞ্চর ক্যাপিটেল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ (এসবিএল)। কোম্পানির তৃতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর, সোমাবার এই পদে যোগ দিয়েছেন নুরুল হাই। ইতিমধ্যই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

এসবিএল-এ যোগদানের আগে, তিনি ওয়াশিংটন ডি.সি.ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক ইমপ্যাক্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ফার্ম SEAF-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যেখানে তিনি বৈশ্বিক ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টিং এবং উন্নয়নমূলক ইমপ্যাক্ট নিয়ে কাজ করতেন। বাংলাদেশে, তিনি SEAF-এর বাংলাদেশ ভেঞ্চারস ফান্ড পরিচালনা করেন এবং পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলো থেকে বেশ কয়েকটি সফল এক্সিট সম্পন্ন করেন,পাশাপাশি একটি অ্যাগ্রি-ভেঞ্চারস ফান্ডও পরিচালনা করেছেন।

নব নিযুক্ত এসবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনে করেন, যখন সরকারি উচ্চাকাঙ্ক্ষা বেসরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে কার্যকরভাবে মিলিত হয়, তখনই একটি সমৃদ্ধ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে। তিনি তার এই বিশ্বাসকে বিনিয়োগযোগ্য পাইপলাইন, সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং বাস্তব ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনাপরিচালক ছিলেন সামি আহমেদ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সামি আহমেদ স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পক্ষপাতমূলক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি এবং উদ্যোক্তাদের প্রতি অবিচারের নানান অভিযোগ ওছে তার বিরুদ্ধে। এরপর গত মে মাসে তিনি নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ান। অতঃপর নিয়মতান্ত্রিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম এই পদে নিয়োগ পেলেন নুরুল হাই।

তার আগে প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনা জাবিন ও সামি আহমেদ সরাসরি এই পদে নিয়োগ পান। তবে তাদের বিষয়ে এসবিএল এর ওয়েব সাইটে কোনো তথ্য নেই।  

সূত্রমতে, ভেঞ্চার ইনভেস্টিং, ইমপ্যাক্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, কোম্পানি বিল্ডিং, ভ্যালু ক্রিয়েশন, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং এবং ইমপ্যাক্ট রিসার্চে তার ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দক্ষিণ এশিয়ার বাজার জুড়ে বিস্তৃত, এবং এর পাশাপাশি পূর্ব আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ানেও তিনি কাজ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি উদ্যোক্তাদের স্থিতিস্থাপক ব্যবসায়িক মডেলগুলোকে পরিমাপযোগ্য ও লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করতে সহায়তা করেছেন। কঠোর পর্যবেক্ষণ, উল্লেখযোগ্য মূল্য সংযোজন, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত এক্সিটের মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছেন। 

নুরুল হাই এর পূর্ববর্তী নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে রয়েছে লংকাবাংলা এএমসি-তে গবেষণা ও অল্টারনেটিভ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট দল গঠন। সেখানে তিনি দল তৈরি করে কঠোর প্রক্রিয়া শৃঙ্খলার সাথে পাবলিক-মার্কেট ফান্ড পরিচালনা করেন। তার পূর্ববর্তী উপদেষ্টা ভূমিকার অংশ হিসেবে, তিনি ভোক্তা, কৃষি-ভেঞ্চার, প্রযুক্তি এবং শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ইউএস ২-৪০ মিলিয়ন  ইউএস ডলার মূল্যের লেনদেন পরিচালনা করেছেন। আইএল ক্যাপিটাল, বিডি ক্যাপিটাল, ব্র্যাক ব্যাংক এবং এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্সে তার প্রাথমিক ভূমিকাগুলো তাকে উৎপত্তি, মূল্যায়ন থেকে শুরু করে ডকুমেন্টেশন, পর্যবেক্ষণ এবং এক্সিট এক্সিকিউশন পর্যন্ত সম্পূর্ণ দক্ষতা সেটকে আরও ধারালো করে তুলতে সাহায্য করে।

ডিএফআই, ভিসি, পিই, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সাথে জনাব হাই-এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা কোম্পানিগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং বাজারে প্রবেশ সহজ করে তোলে। একই সাথে তিনি লিঙ্গ-ভিত্তিক বিনিয়োগ এবং জলবায়ু কার্যক্রমসহ ইএসজি ও ব্যবস্থাপনার শক্তিশালী মান বজায় রাখেন। তিনি আইপিও, ট্রেড সেল, সেটেলমেন্ট, সেলফ-লিকুইডেশন ইত্যাদি সহ বিভিন্ন ধরনের এক্সিট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ইকোসিস্টেমে তার অবদানের মধ্যে রয়েছে ইউনিস্টার্টআপে পিচ জাজ হিসেবে ভূমিকা পালন, ২এক্স ইগনাইট (২এক্স গ্লোবালের অংশ)-এর এপিএসি মেন্টর এবং স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইসর হিসেবে কাজ করা এবং গ্লোবাল সেন্টার ফর রিস্ক অ্যান্ড ইনোভেশনের বোর্ড সদস্য হিসেবে থাকা—এই প্ল্যাটফর্মগুলো তিনি অপারেটরদের কোচিং দিতে এবং বিনিয়োগের প্রস্তুতি ও মান উন্নত করতে ব্যবহার করেন। তিনি আইবিএ থেকে ইএমবিএ (ফাইন্যান্স) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ (ফাইন্যান্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।